বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল চোখে গ্রহাণু ও গ্যালাক্সির হদিস।
অবজারভেটরিটিতে থাকা এই ক্যামেরার নাম লার্জ সিনপটিক সার্ভে টেলিস্কোপ (LSST)। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত এই টেলিস্কোপ দিয়ে ভবিষ্যতে হাজার হাজার বছর আগের অদেখা গ্রহাণু ও ধূমকেতুর ছবি তোলা যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
প্রথম ছবি থেকে এখন পর্যন্ত যে ২ হাজারের বেশি গ্রহাণুর সন্ধান মিলেছে, তার মধ্যে সাতটি পৃথিবীর একেবারে কাছাকাছি কক্ষপথে অবস্থান করছে। এগুলোর কোনোটি আগে কখনও শনাক্ত হয়নি।
প্রতিদিন রাতভর এই মানমন্দির থেকে ধারাবাহিকভাবে তোলা হচ্ছে হাজার হাজার ছবি। উজ্জ্বলতার তারতম্য বিশ্লেষণ করে এসব ছবির মধ্য থেকেই শনাক্ত হচ্ছে লুকিয়ে থাকা মহাকাশ শিলা বা ছোট গ্রহাণুর মতো বস্তু। এসব পর্যবেক্ষণের জন্যই নির্মিত হয়েছে এই ক্যামেরা, যা এখন পর্যন্ত সব অপটিক্যাল টেলিস্কোপের চেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে।
এদিকে, ক্যামেরাটিতে তোলা ছবিগুলো দিয়ে ১১০০টিরও বেশি ফ্রেম একত্র করে তৈরি করা হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও। বিজ্ঞানীরা একইসঙ্গে ত্রিফিড ও লেগুন নীহারিকা অঞ্চলের একটি বিশাল মোজাইকও প্রকাশ করেছেন, যা ৬৭৮টি আলাদা আলাদা ছবিকে জোড়া দিয়ে তৈরি। ছবিগুলো তোলা হয়েছে মাত্র ৭ ঘণ্টায়। এতে গ্যাস, ধুলা ও আলোর নীরব বিস্ফোরণ যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি লক্ষ করা গেছে পৃথিবী থেকে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরের বিস্তীর্ণ মহাকাশীয় গঠন।
রুবিন অবজারভেটরির গবেষক ইউসরা আল সাইয়্যাদ জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের ছবি, তবে ভবিষ্যতে এই টেলিস্কোপ থেকে যে পরিমাণ ডেটা আসবে, তা দিয়ে মহাবিশ্বের অজানা অধ্যায়গুলো নতুন করে লেখা যেতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, ম্যাশেবল

মতামত দিন