বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় হাঙরের শরীরে গণিতের নিখুঁত প্রয়োগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাঙরের বিশাল শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পুষ্টি বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ  প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনা করা সহজ কোনো কাজ নয়। অথচ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখেছেন, এই প্রাণীটির দেহবিজ্ঞানের পেছনে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন একটি গাণিতিক সূত্র—‘টু-থার্ডস স্কেলিং ল’ বা দুই-তৃতীয়াংশ অনুপাতের নিয়ম।

‘রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স’ নামের একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়,হাঙররা তাদের শারীরিক কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে শরীরের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল ও আয়তনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক অনুপাত বজায় রাখে। এ অনুপাত অনুসারে, শরীরের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে তার পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বাড়ে তার বর্গ অনুসারে, আর আয়তন বাড়ে ঘনমাত্রায়। ফলে আয়তনের তুলনায় পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলের বৃদ্ধি  ধীরগতি হয়। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া—যেমন, ত্বকের মাধ্যমে তাপ হারানো কিংবা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস—এই পৃষ্ঠভিত্তিক।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ৫৪টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির হাঙরের উপর পরিচালিত পরীক্ষায় উচ্চ রেজুলেশনের থ্রিডি মডেল ব্যবহার করেছেন। খুদে বামন ল্যান্টার্ন হাঙর থেকে শুরু করে দৈত্যাকৃতি তিমি হাঙর পর্যন্ত বিশ্লেষণে তারা দেখেছেন, প্রায় সব হাঙরই একই গাণিতিক অনুপাতে পৃষ্ঠ ও আয়তনের ভারসাম্য বজায় রেখে বিকশিত হয়।

গবেষণা দলের সদস্য জোডি এল. রামার বলেন, “আমরা সিটিস্ক্যান ও ফটোগ্রামেট্রির সাহায্যে থ্রিডি মডেল তৈরি করেছি এবং ব্লেন্ডার সফটওয়্যারে সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। দেখা গেছে, ছোট বা বড় যেকোনো আকারের হাঙর শরীরের পৃষ্ঠ ও আয়তনের মধ্যে নিখুঁত দুই-তৃতীয়াংশ অনুপাত বজায় রাখে।”

এই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কোষ বা পোকামাকড়ের মতো ছোট জীবেই নয়, বিশালাকৃতির সামুদ্রিক শিকারি প্রাণী হাঙরের ক্ষেত্রেও এই গাণিতিক নিয়ম কার্যকর। এ থেকে ধারণা করা যায়, জীবজগতের বিকাশে গাণিতিক নিয়মের গুরুত্ব অনেক গভীরে নিহিত।

বিজ্ঞানী জোয়েল গেফোর্ড বলছেন, “এই ধরনের গণিতভিত্তিক জৈবিক কাঠামো বোঝা গেলে ভবিষ্যতে  প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় ক্ষমতা, অভিযোজন ও পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে আরও গভীর অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া যাবে।”

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন