বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

সূর্যের বাইরের স্তরে নতুন রহস্য: করোনা অঞ্চলজুড়ে আবিষ্কৃত হচ্ছে ‘বৃষ্টির মতো’ দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সূর্যের সবচেয়ে রহস্যঘেরা অংশ হিসেবে পরিচিত তার বাইরের বায়ুমণ্ডল, যাকে বলা হয় "করোনা"।এই স্তর সূর্যের গা ঘেঁষে নয়, বরং বহু লাখ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে মহাশূন্যে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—এই অংশ সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়ে কয়েকশো গুণ বেশি উষ্ণ! বিজ্ঞানীরা একে ‘করোনাল হিটিং প্রবলেম’ বা করোনার উত্তাপজনিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সৌর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (NSO) ও নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা সূর্যের করোনায় এক অভিনব দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেছেন। উন্নত মাটি-ভিত্তিক সৌর টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তাঁরা এমন একটি ঘটনা আবিষ্কার করেছেন, যা অনেকটা মহাকাশে ‘বৃষ্টিপাত’-এর মতো দেখায়।

গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেছেন, সূর্যের বাইরের এই প্লাজমা স্তরের অংশবিশেষ ঠান্ডা হয়ে পুনরায় সূর্যের দিকেই ফিরে আসে। দেখতে অনেকটা জলীয় বাষ্পের জমে বৃষ্টি হয়ে নামার মতো। তবে এটি কোনো তরল জলীয় পদার্থ নয়, বরং তড়িৎচালিত গ্যাসীয় পদার্থ—প্লাজমা। সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘন সংবেদনশীলতা ও  বিকলন নিয়ন্ত্রণে ‘অ্যাডাপটিভ অপটিকস’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই দৃশ্যগুলো স্পষ্টভাবে ধরা যাচ্ছে।

গবেষণা দলের বিজ্ঞানী ডার্ক শ্মিট জানিয়েছেন, ‘ভূপৃষ্ঠ থেকে সূর্য পর্যবেক্ষণ করা সবসময় কঠিন। বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ব্যাহত হয়। কিন্তু আমরা এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করছি যা এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সূর্যের বাইরের স্তরের সূক্ষ্ম কাঠামো দেখার সুযোগ তৈরি করছে।’

১.৬ মিটার আয়তনের গুড সোলার টেলিস্কোপ দিয়ে তোলা এই ছবি সূর্যের করোনার জটিলতা আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে সহায়তা করছে। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে কীভাবে সূর্যের করোনাল অঞ্চল থেকে শক্তি নির্গত হয়, কীভাবে এই অংশ অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয় এবং কীভাবে এসব প্রক্রিয়া পৃথিবীর চৌম্বক বলয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে, জ্যোতির্বিজ্ঞানী থমাস শ্যাড বলেন, ‘করোনায় দেখা দেওয়া প্লাজমার এই বৃষ্টির মতো ধস কখনো কখনো মাত্র ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত পথ দিয়ে ঘটে থাকে। সূর্যের বিশালত্বের তুলনায় এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম হলেও, এর প্রভাব হতে পারে ব্যাপক।’

সূর্যকে ঘিরে এমন গবেষণা ভবিষ্যতে সৌর ঝড় ও মহাকাশীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  রাখতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন