সব পাখিরা কেন উড়তে পারে না ,উড়তে না পারা পাখির রহস্যই বা কি?
পাখি বলতে চোখে ভেসে ওঠে ডানা মেলে আকাশ ছোঁয়ার এক অবাধ শক্তি। কিন্তু প্রকৃতির অদ্ভুত নিয়মে পৃথিবীতে এমন অনেক পাখি রয়েছে, যারা উড়তেই পারে না।
বর্তমানে পৃথিবীতে ৬০টির বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে যারা ওড়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। এদের মধ্যে উটপাখি, এমু, পেঙ্গুইন, কিউই ও কাসোয়ারি অন্যতম। এসব পাখি কখনো দ্বীপাঞ্চল, কখনো মরুভূমি কিংবা হিমবাহের মতো কঠিন পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে—তাও ডানা না মেলেই।
ওড়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়াই ছিল রূপান্তরের সূচনা
জীববিজ্ঞানের ব্যাখ্যায়, যেসব পাখিরা এমন পরিবেশে বাস করত যেখানে শিকারির হুমকি কম ছিল,তাদের ওড়ার তাগিদও তেমন ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজন না থাকায় তাদের শরীর থেকে ওড়ার উপযোগী বৈশিষ্ট্যগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়।
বিপরীতে, ওড়ার জন্য শক্তিশালী পেশি ও বিশেষ হালকা হাড়ের গঠন দরকার হয়, যা অনেক শক্তি সঞ্চয়েরও দাবি রাখে। ফলে ওড়ার পরিবর্তে দৌড়ানো বা সাঁতারের মতো দক্ষতায় নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে এই পাখিরা। পেঙ্গুইন, স্টিমার ডাকের মতো পাখিরা পানির নিচে দ্রুতগতিতে চলার জন্য ডানাকে ফ্লিপারে রূপ দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিচিত্র অভিযোজন
উটপাখি আফ্রিকার শুষ্ক প্রান্তরে দৌড়ে চলে ঘণ্টায় ৭০ কিমি বেগে— এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও দ্রুতগতির পাখি। এমু, যাদের দেখা মেলে অস্ট্রেলিয়ায়, তারা দৌড়ের দিক দিয়ে উটপাখির পরেই। নিউজিল্যান্ডের গহিন অরণ্যে রয়েছে কিউই, নিশাচর ও ছোট আকৃতির এ পাখির নাকের ছিদ্র ঠোঁটের ডগায়।
অন্যদিকে, কাসোয়ারি নামে ভয়ংকর প্রজাতির এক পাখি রয়েছে নিউগিনি ও অস্ট্রেলিয়ার বনে— যাদের পায়ের আঘাত প্রাণঘাতী হতে পারে। পেঙ্গুইনরা তো বরফের রাজ্যে নিজেদের এমনভাবে মানিয়ে নিয়েছে যে, ঠান্ডা পানি যেন তাদের দ্বিতীয় আবাস। এসব পাখি উড়তে না পারলেও সাঁতারে ও স্থলচলাচলে দারুণ পারদর্শী।
মানবসৃষ্ট ঝুঁকিতে অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি
যদিও কিছু পাখি এখনও টিকে আছে, তবে বহু ডানাবিহীন প্রজাতি মানুষের হস্তক্ষেপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডোডো ও মোয়া নামের প্রজাতিগুলো এই ভয়াবহ পরিণতির উদাহরণ।
উপসংহার
পাখি মানেই যে আকাশে ওড়া, সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে এই ডানাহীন পাখিরা। ওড়ার বদলে অভিযোজনের পথে হেঁটেই তারা প্রমাণ করছে, টিকে থাকার জন্য শুধু ডানাই যথেষ্ট নয়— দরকার পরিবেশ বুঝে নিজেকে পাল্টে নেওয়ার সক্ষমতা। এ এক আশ্চর্য বিবর্তনের সাক্ষ্য, যা প্রকৃতির নিঃশব্দ মহাকাব্যে লেখা হয়ে রয়েছে।
সূত্র: ব্রিটানিকা

মতামত দিন