মহাবিশ্বের কী কোনো কেন্দ্রীয় স্থান আছে?
গবেষকরা জানাচ্ছেন, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র ব্যবহার করে নির্মিত আধুনিক মডেলগুলো বলছে— মহাবিশ্ব আসলে একটি গতিশীল কাঠামো, যা ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণের প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ রব কয়নে বলেন, “মহাবিশ্বের কোনো কেন্দ্র নেই— এটি কল্পনায় নেওয়াই কঠিন। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের নিরিখে এটিই বাস্তব।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রসারণ মানে আমরা যা বুঝি— যেমন একটি বস্তুর বড় হওয়া বা দূরে সরে যাওয়া— তার থেকেও এটি একটু ভিন্ন। দূরের ছায়াপথগুলো যত দূরে রয়েছে, তাদের সরে যাওয়ার গতি তত বেশি। বিষয়টি এমন নয় যে গ্যালাক্সিগুলো নিজেরাই একে অপর থেকে দূরে যাচ্ছে; বরং মহাবিশ্বের স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে, ফলে গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়ছে।
এই ধারণাকে বোঝাতে বিজ্ঞানীরা একটি পরিচিত উপমার আশ্রয় নেন: একটি বেলুন, যার পৃষ্ঠে কিছু বিন্দু আঁকা রয়েছে। বেলুনে বাতাস ঢুকলে সেটি বড় হয় এবং সেই বিন্দুগুলো একে অপর থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু আসলে বিন্দুগুলোর নিজস্ব কোনো গতি নেই, বরং প্রসারণ হচ্ছে বেলুনের। এই উপমা দিয়ে বোঝানো হয়, মহাবিশ্বের ভেতরে থাকা বস্তু নয়, বরং পুরো স্থান-কাল কাঠামোই সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, বেলুনের কেন্দ্র যেমন এর পৃষ্ঠে খুঁজে পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি আমাদের মহাবিশ্বের ও কোনো কেন্দ্রীয় স্থান নেই। আপনি মহাবিশ্বের যেকোনো দিকে যত দূরই যান না কেন, কোথাও গিয়ে বলতে পারবেন না যে এটি কেন্দ্রীয় বিন্দু। কারণ, মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থানই একভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এমন বাস্তবতাই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে মহাবিশ্বের ধারণা বদলে দিয়েছে। সম্প্রসারণশীল ও কেন্দ্রহীন এই মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা এখনো চলছেই, আর সেই চেষ্টার মধ্যেই প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা।
মতামত দিন