বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ পদার্থের সন্ধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে রেডিও তরঙ্গ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহাবিশ্বে আমরা যে বস্তু দেখি—তারা, গ্রহ, গ্যাস, ধুলিকণা কিংবা ছায়াপথ—তা আসলে মোট পদার্থের খুব সামান্য অংশ। বিজ্ঞানের ভাষায় এসব দৃশ্যমান বস্তু “সাধারণ পদার্থ” বা বেরিয়ন হিসেবে পরিচিত, যা মোট পদার্থের মাত্র ১৫ শতাংশ।

বাকি ৮৫ শতাংশ রয়েছে রহস্যে ঢাকা অদৃশ্য অন্ধকার পদার্থ হিসেবে। কিন্তু  সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা হারিয়ে যাওয়া সাধারণ পদার্থেরও এক বড় অংশের খোঁজ পেয়েছেন বলে দাবি করছেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিয়াম কনরের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, মহাবিশ্বের ৬৯টি ভিন্ন স্থান থেকে আসা শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গের বিস্ফোরণ—যেগুলো ফার্স্ট রেডিও বার্স্ট বা এফআরবি নামে পরিচিত—বিশ্বের দূরদূরান্তে ছড়িয়ে থাকা এই অনুপস্থিত পদার্থের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে।

কনর বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি—এই সাধারণ পদার্থগুলো কোথায় গেল?” তার মতে, এই নিখোঁজ পদার্থ আসলে ছায়াপথের বাইরের এক বিশৃঙ্খল, ছড়ানো মহাজাগতিক জালে লুকিয়ে আছে।

সাধারণ পদার্থ গঠিত হয় উপপারমাণবিক কণা প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। তবে সুপারনোভা বিস্ফোরণ কিংবা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের মতো ঘটনাগুলোর ফলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ছায়াপথ থেকে বাইরে নির্গত হয়, যা পরবর্তীতে মহাবিশ্বের দূরদূরান্তে প্লাজমা আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্লাজমাই মূলত সেই নিখোঁজ সাধারণ পদার্থ।

গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিও তরঙ্গ আলোর গতি নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণের সময় বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ছড়ায়। এই বিচ্ছুরণের মাত্রা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করতে পারছেন, কতটা পদার্থ আলোর পথে বাধা হয়ে ছিল। কনরের মতে, যদি পদার্থবিদ্যার নিয়ম একটু ভিন্ন হতো, তাহলে সমস্ত প্রোটন ও নিউট্রন কোনো না কোনো তারায় রূপান্তরিত হতো। বাস্তবে তা না হওয়ায় তারা মহাকাশে ছড়িয়ে গেছে।

যদিও ফার্স্ট রেডিও বার্স্টের প্রকৃত উৎস এখনো রহস্যময়, ধারণা করা হয় এগুলোর উৎপত্তি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রযুক্ত নিউট্রন তারার বিস্ফোরণ থেকে।

এই গবেষণার মাধ্যমে কেবল নিখোঁজ সাধারণ পদার্থের অবস্থান নয়, বরং মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কেও নতুন ধারণার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন