নিজস্ব সংকেতে কথা বলে ডলফিন,শিসের ভেতরে লুকানো থাকে জটিল বার্তা।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক একাতেরিনা ওভস্যানিকোভার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলনোজ প্রজাতির ডলফিনেরা ‘সিগনেচার হুইসেল’ নামে পরিচিত অনন্য ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়। তবে ডলফিনদের এই হুইসেলে আরও আবেগময় ও প্রাসঙ্গিক তথ্যও থাকতে পারে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
ডলফিনদের সামাজিক জীবন অত্যন্ত জটিল। তারা দলবদ্ধভাবে থাকে এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত থাকে।সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হয় এক ডলফিনের সঙ্গে অন্য ডলফিনের। এই যোগাযোগের মূল হাতিয়ার হয়ে ওঠে তাদের বিভিন্ন ধরনের শিস।
শুধু আত্মপরিচয়ের জন্য নয়, অন্যান্য সামাজিক সংকেত দিতেও ডলফিনরা বিভিন্ন রকম শিস ব্যবহার করে থাকে।গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ডলফিন যখন অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন তার শিসের প্রায় ৩০ শতাংশই হয়ে থাকে তার নিজস্ব সিগনেচার হুইসেল।
২০১৭ ও ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন উপকূলের মোরেটন দ্বীপের কাছে টাঙ্গালুমা আইল্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় ইন্দো-প্যাসিফিক বোতলনোজ ডলফিনদের নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালান গবেষকেরা। নতুন রেকর্ডের পাশাপাশি তারা ১৫ বছর আগের পুরোনো রেকর্ডিংও বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ডলফিনেরা ছোটবেলাতেই এই সংকেত শেখে এবং সারাজীবন তা ব্যবহার করে। পুরুষ ডলফিনদের শিস নারীদের তুলনায় বেশি পরিবর্তনশীল—সম্ভবত ভিন্ন সামাজিক ভূমিকার কারণে।
এই গবেষণা প্রাণিজগতে যোগাযোগব্যবস্থা বিষয়ে নতুন ধারণা দিচ্ছে বিজ্ঞানীদের। ডলফিনদের শিস শুধু পরিচয়ের মাধ্যম নয়, বরং আবেগ ও প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বোঝাতেও ব্যবহৃত হয় কি না, তা জানতে আরও গবেষণা চলছে।

মতামত দিন