মস্তিষ্কের তরঙ্গ পর্যবেক্ষণে এবার তারহীন ই–ট্যাটু,মানসিক চাপ বোঝার নতুন সম্ভাবনা।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন এক ই–ট্যাটু তৈরি করেছেন, যা ত্বকের উপর বসিয়ে সহজেই মানুষের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ‘ডিভাইস’ নামক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে জানানো হয়েছে, এটি মূলত ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) এবং ইলেকট্রোকুলোগ্রাফি (ইওজি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মস্তিষ্ক ও চোখের বৈদ্যুতিক সংকেত সংগ্রহ করে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পেশাগতভাবে উচ্চ মনোযোগ ও ধৈর্যের প্রয়োজন এমন পেশাজীবীদের—যেমন ট্রাফিক কন্ট্রোলার বা ভারী যানবাহনের চালক—চাকরি-সংক্রান্ত মানসিক চাপ পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে সাহায্য করা যাবে। ডিভাইসটিতে ছোট ব্যাটারি প্যাক ও পাতলা সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে এটি ত্বকের সঙ্গে মসৃণভাবে কাজ করতে পারে। সেন্সরটিতে ছোট ছোট কয়েল ও লুপ রয়েছে, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে ধরতে পারে।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক নানশু লু বলেন, "প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগোচ্ছে, কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না।অতিরিক্ত চাপ আমাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।কাজের চাপ ঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারলে কর্মদক্ষতাও বাড়বে।"
গবেষণা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ছয়জন অংশগ্রহণকারীর ওপর এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, যখন তাদের মানসিক চাপ বেড়েছে, তখন থিটা ও ডেল্টা তরঙ্গ সক্রিয় হয়েছে এবং আলফা ও বিটা তরঙ্গের মাত্রা কমে গেছে—যা মানসিক ক্লান্তির ইঙ্গিত দেয়। ই–ট্যাটুর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা কাজের চাপের মাত্রা নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
সবশেষে, গবেষকেরা এই সংকেত বিশ্লেষণে সক্ষম একটি কম্পিউটার মডেল তৈরি করেছেন, যা আগাম বলে দিতে পারে কোনো ব্যক্তি মানসিকভাবে কতটা চাপের মধ্যে রয়েছে।
এই প্রযুক্তি বাস্তব প্রয়োগে এলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এটি একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
মতামত দিন