বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

দেড় কিলোমিটার দূরের ক্ষুদ্র লেখাও পড়া সম্ভব,চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন লেজার প্রযুক্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দূরত্বের বাধা পেরিয়ে দৃষ্টিসীমার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল চীনের বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়নার একদল গবেষক এমন একটি লেজার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রায় ১.৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাত্র ৩ মিলিমিটার মাপের অক্ষরও পড়া সম্ভব।
সম্প্রতি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে।

আলো বিশ্লেষণের অভিনব পদ্ধতি

গবেষকদের মতে,প্রচলিতভাবে দূরের বস্তুর ছবি ধারণ করতে উচ্চ ক্ষমতার লেন্স বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন এই প্রযুক্তি কাজ করে ভিন্নভাবে—এটি বস্তুর ওপর আলো কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেই প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে। এতে মূল ভূমিকা রাখে আটটি ইনফ্রারেড লেজার রশ্মি, যেগুলো নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে একযোগে নিক্ষেপ করা হয়। প্রতিফলিত আলোর তীব্রতা দুটি পৃথক টেলিস্কোপে সংগ্রহ করে সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি হয় উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি।

১৪ গুণ বেশি স্পষ্টতা

গবেষণার পরীক্ষামূলক ধাপে ১.৩৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র বস্তু সফলভাবে শনাক্ত করে প্রযুক্তিটি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির রেজল্যুশন একটি সাধারণ টেলিস্কোপের বিবর্তন সীমার চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বেশি। ফলে নিখুঁতভাবে ক্ষুদ্রতম লেখাও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের অপটিক্যাল সেন্সিংয়ের সম্ভাবনা

গবেষকদের বিশ্বাস, এই লেজার প্রযুক্তি কেবল অপটিক্যাল ইমেজিং নয়, উচ্চ রেজল্যুশনের সেন্সিং প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে এটি পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি, পরিবেশ বিশ্লেষণ, এমনকি মহাকাশ গবেষণায়ও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

এই উদ্ভাবন শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতাকেই বাড়াল না, দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে অপটিক্যাল ইমেজিংয়ের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তারও এক ঝলক দেখাল।

মতামত দিন