বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

দুই দশক ঘুমিয়ে ছিল, হঠাৎ জেগে উঠল ভয়ংকর ব্ল্যাকহোল।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মহাকাশ গবেষণায় এক বিরল সাফল্যের মুখ দেখলেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ২০ বছর ধরে নিস্তব্ধ থাকা একটি সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে।
বিশাল এই কৃষ্ণগহ্বর একেবারে চোখের সামনে যেন ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছে—আর এই দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

এটি প্রথমবারের মতো কোনো সুপ্ত ব্ল্যাকহোলকে সক্রিয় অবস্থায় রূপান্তরিত হতে রিয়েল-টাইমে দেখার ঘটনা।

ঘটনাটি ধরা পড়েছে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ভারগো নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত এসডিএসএস ১৩৩৫+০৭২৮ নামের একটি গ্যালাক্সিতে। দীর্ঘদিন ধরে শান্ত এই গ্যালাক্সি হঠাৎ করে ২০১৯ সালের শেষের দিকে আলো ছড়াতে শুরু করে। এরপর থেকে আলোর তীব্রতা এমন মাত্রায় বাড়তে থাকে যে, বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান।

জার্মান গবেষক পাউলা সানচেজ সায়েজ বলেন, “যে গ্যালাক্সিকে এতদিন নিষ্ক্রিয় মনে হচ্ছিল, সেটি হঠাৎ উজ্জ্বল হতে শুরু করে। এমন দৃশ্য আমরা আগে কখনো দেখিনি। এটা ছিল এক নিস্তব্ধ কৃষ্ণগহ্বরের আচমকা জেগে ওঠার সরাসরি নজির।”

অন্যদিকে গবেষক ক্লাউডিও রিকি বলেন, “এ ধরনের সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল সাধারণত অদৃশ্য এবং সুপ্ত থাকে। কিন্তু এবারের ঘটনা প্রমাণ করল, তারা আকস্মিকভাবেও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।”

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ গুণ বেশি ভরবিশিষ্ট এই ব্ল্যাকহোলটি এখন অতিবেগুনি, দৃশ্যমান (অপটিক্যাল), ইনফ্রারেড এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্স-রে তরঙ্গেও তীব্র বিকিরণ ছড়াচ্ছে। তারা ধারণা করছেন, ব্ল্যাকহোলটির চারপাশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস জড়ো হয়েছে। সেই গ্যাস ধীরে ধীরে ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রে টান পড়ছে, ফলে পুরো গ্যালাক্সি এখন রূপ নিয়েছে একটি ‘অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস’-এ।

বিজ্ঞানীদের মতে,এই বিরল পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে ব্ল্যাকহোল কীভাবে বিকশিত হয় এবং তা গ্যালাক্সির বিবর্তনে কীভাবে ভূমিকা রাখে—সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য এনে দেবে।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন