বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর গভীর গর্ভে সোনার খনি, লাভায় মিলছে মূল্যবান ধাতুর চিহ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:

পৃথিবীর কেন্দ্র যে অগ্নিগর্ভ এক ধাতব বল, তা বিজ্ঞানভিত্তিক সাধারণ জ্ঞান। কিন্তু এই প্রজ্জ্বলিত কেন্দ্রেই লুকিয়ে থাকতে পারে অমূল্য ধনভাণ্ডার—এমনটাই বলছেন জার্মান গবেষকরা।

তাদের মতে, কেন্দ্রীয় কোরে প্রচুর সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে। আর এই ধাতুর ক্ষুদ্র অংশ প্রতিনিয়তই উঠে আসছে পৃথিবীর উপরিভাগের দিকে।

গোটিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সম্প্রতি হাওয়াই দ্বীপের আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরিত লাভা বিশ্লেষণ  করে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। লাভায় পাওয়া গেছে রুথেনিয়াম নামের এক বিরল ধাতুর চিহ্ন। এই  রুথেনিয়াম সাধারণত পৃথিবীর কেন্দ্রেই অবস্থান করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, গভীর  কোর থেকে কিছু ধাতব উপাদান সোজা উঠে আসছে পৃথিবীর পৃষ্ঠের দিকে।

গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী ভূ-রসায়নবিদ ড. নিলস মেসলিং জানান, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেই আমরা অনুভব করেছিলাম, লাভায় মূল্যবান কিছু ধাতুর অস্তিত্ব রয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে—রুথেনিয়ামসহ বেশ কিছু ধাতু কেন্দ্র থেকে ওপরের দিকে আসছে।”

পৃথিবীর গঠন কাঠামো অনুসারে, কেন্দ্রীয় অংশটি গলিত ধাতব কোর দিয়ে তৈরি,যার তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের সমতুল্য—প্রায় ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ওপর রয়েছে কঠিন কোর, তারপর ম্যান্টল এবং সবশেষে পাতলা ভূত্বক। দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে আসছেন, পৃথিবীর অভ্যন্তরে অনেক অজানা উপাদান এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। নতুন এই গবেষণা সেই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেসব ধাতু আজ আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান—যেমন সোনা, রুথেনিয়াম, ইরিডিয়াম—তা প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর কেন্দ্রের গহীনে আটকে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লাভায় যেসব আইসোটোপিক স্তর ধরা পড়েছে, তা পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে,কোরের উপাদান ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাচ্ছে।

গবেষণাটির গুরুত্ব নিয়ে বিজ্ঞানী মেসলিং বলেন, “এই আবিষ্কার শুধু ভূতত্ত্ব নয়, আমাদের গ্রহের গঠন ও ধাতব চলাচল সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। এখন প্রশ্ন হলো—এই ধাতুগুলো কীভাবে,কত পরিমাণে এবং কী গতিতে উপরের দিকে আসছে?”

এই গবেষণালব্ধ তথ্য ভবিষ্যতে মেটাল রিসোর্স বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এখনো পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত সরাসরি পৌঁছানো অসম্ভব, তবুও লাভা এবং শিলার বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া এই বার্তা নতুন করে বিজ্ঞানীদের আশাবাদী করে তুলেছে—একদিন হয়তো মানুষের  হাত পৌঁছাবে পৃথিবীর সেই গোপন ধনভাণ্ডারে।

মতামত দিন