বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

সেলফিতে জানা যাবে স্বাস্থ্য-বয়স: নতুন প্রযুক্তি ‘ফেসএইজ’।

চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণের পদ্ধতিতে যুক্ত হলো এক নতুন প্রযুক্তি—‘ফেসএইজ’। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের গবেষকেরা তৈরি করেছেন এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল, যা সেলফি থেকে একজন মানুষের বায়োলজিকাল বয়স নির্ধারণ করতে সক্ষম।

গবেষকদের দাবি, এই এআই চিকিৎসকদের রোগীর শারীরিক সুস্থতা বিশ্লেষণ ও চিকিৎসা পরিকল্পনায়  সহায়ক হবে। ‘ফেসএইজ’ মূলত একটি ডিপ লার্নিং মডেল, যা মুখের গঠন, চোখের নিচের বলিরেখা, ত্বকের রংসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে শরীরিক বয়স অনুমান করে। যেমন, কারও প্রকৃত বয়স ৭০ হলেও তার জীবনযাপন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও চেহারাগত বিশ্লেষণে ফেসএইজ জানাতে পারে—তার শরীরিক বয়স ৬০।

প্রযুক্তিটির অন্যতম নির্মাতা, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ড. রেমন্ড ম্যাক বলেন, “চেহারা দেখে বয়সের তুলনায় কেউ বেশি বা কম মনে হওয়া এতদিন ছিল আন্দাজ নির্ভর। ফেসএইজ এই অনুমানকে পরিমাপযোগ্য করে তুলেছে।”

প্রায় ৯ হাজার মানুষের—এর মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন হলিউড তারকা —ছবি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিটি যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ১ থেকে ১১৬ বছর বয়সী মানুষের ছবির একটি ডেটাসেটও ব্যবহার করেন গবেষকেরা।

পরীক্ষামূলকভাবে ৬ হাজার ২০০ ক্যানসার রোগীর ছবিতে ফেসএইজ প্রয়োগ করে দেখা গেছে, তাদের জীববৈজ্ঞানিক বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে গড়ে পাঁচ বছর বেশি। শুধু ছবি দেখে চিকিৎসকের পূর্বাভাস যেখানে ৬১% ক্ষেত্রে সঠিক হয়েছে, চেহারা ও ক্লিনিক্যাল ডেটা মিলিয়ে সঠিকতা দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশে। তবে ফেসএইজ ব্যবহার করে নির্ভুলতার হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

গবেষকেরা জানান, ফেসএইজ কোনো শনাক্তকরণ বা নজরদারির উদ্দেশ্যে নয়—শুধুমাত্র বয়স বিশ্লেষণেই ব্যবহৃত হবে। ফলে গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও উদ্বেগ কম। এখনো প্রযুক্তিটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই বড় পরিসরে পাইলট প্রকল্পে যাচাই হবে।

তবে সতর্ক করে গবেষকেরা বলেছেন, শুধু মুখের চেহারা দেখে স্বাস্থ্য বিচার যথেষ্ট নয়। মানুষ এবং তার শরীরিক অবস্থা বহুস্তর ও জটিল। এআই কেবল একটি সহায়ক উপকরণ, চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

মতামত দিন