জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে রাজশাহী নার্সিং কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।

রাজশাহী নার্সিং কলেজে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ মে) সকালে কলেজ অধ্যক্ষ মোসা. মতিয়ারা খাতুন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে দুপুর ১২টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তবে ,এই নির্দেশনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং হল না ছাড়ার  ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হামলার শিকার হওয়ার পরও উল্টো তাঁদেরই শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কলেজের ডিপ্লোমা (সিনিয়র স্টাফ নার্স) ও বিএসসি ইন নার্সিং (বেসিক) শিক্ষার্থীদের মধ্যে  দীর্ঘদিন ধরে চলা দাবিদাওয়া ঘিরে উত্তেজনা ছিল। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা বিএসসি সমমানের স্বীকৃতি চেয়ে আন্দোলন করছিলেন, অন্যদিকে বিএসসি শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছিলেন শিক্ষা ও পেশাগত মান রক্ষার।

মঙ্গলবার দুপুরে এ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২৫–৩০ জন আহত হন, এর মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে  নিয়েও আহতদের ওপর ফের হামলা চালানো হয়।

রাজশাহী নার্সিং কলেজের বিএসসি নার্সিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ওপর যখন হামলা হয়েছে, তখন কলেজ প্রশাসন নির্বিকার ছিল। এখন উল্টো আমাদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা অন্যায়।”

তিনি আরও জানান, হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজে বিক্ষোভ করে।এর মাঝেই কর্তৃপক্ষ কলেজ বন্ধের ঘোষণা দেয়। এখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি আদায়ে প্রয়োজনে  অনশনেও যাবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কলেজ অধ্যক্ষ মতিয়ারা খাতুন বলেন, “১৬ মে ভর্তি পরীক্ষা। তার আগে আবার সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আমি আর সামলাতে পারছি না, সে কারণেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছি।”

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, যাঁরা হামলা চালিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সব শিক্ষার্থীকে হল ছাড়তে বাধ্য করা হলো, যা অবিচার ও একতরফা সিদ্ধান্ত।

মতামত দিন