রাঙামাটির লংগদুতে কুকুর শিকার পাচার হচ্ছে ভারতে।
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় সম্প্রতি বেওয়ারিশ কুকুর নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এসব কুকুর ধরা হচ্ছে এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে পাঠানো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ফাঁদ পেতে কুকুর ধরা হয়। এরপর সেগুলো নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে বরকলের দিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে ভারতের দিকে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ভারতের মিজোরাম রাজ্যে মার্চ মাসে ‘চাপচার কুট’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব পালিত হয়। কৃষিনির্ভর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে জানা গেছে। সামনে উৎসব থাকায় শিকারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
তবে কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, তারা বরকল এলাকা থেকে এসেছেন এবং নিজেদের খাওয়ার জন্যই কুকুর ধরেছেন।
আইনগত দিক বিবেচনায় বিষয়টি স্পর্শকাতর। বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী মালিকবিহীন প্রাণী হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয়। একইভাবে মিজোরামেও কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে সেখানকার বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে কুকুরকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা জানান, উৎসবের সময় কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন থাকায় চাহিদা বাড়তে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আইন অনুযায়ী বেওয়ারিশ কুকুর সরানো বা হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বাহক হতে পারে, ফলে এমন মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানকার কুকুর সরিয়ে দিলে বাইরের টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করতে পারে। এ কারণে নির্বিচারে অপসারণ না করতে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সচেতনতার মাধ্যমেই এ ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মত দেন তিনি।
মতামত দিন