জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আগে আট উপজেলায় চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী–কে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

কী করবে কমিটি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’—

  • ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন করবে

  • স্বচ্ছ ও নির্ভুল সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজ সংযুক্ত করে আধুনিক ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ করবে

  • নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচি এই প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করবে

কারা পাবেন, কত সহায়তা

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবার মাসে নগদ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। হতদরিদ্র ও নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সর্বজনীন হবে; ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য নয়। সরাসরি উপকারভোগীর হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মতামত দিন