জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

চাকরি ফেরতের দাবিতে ব্র্যাক ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীদের আন্দোলন অব্যাহত।

চাকরি ফেরতের দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সিএমএসএমই নারী উদ্যোক্তা মেলার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ  করেন তারা।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,সকালে থেকেই চাকরিচ্যুত কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। অনুষ্ঠান শেষে গভর্নর গাড়িতে করে মেলা এলাকা ত্যাগ করতে চাইলে তার পথ রোধ করেন কয়েকজন নারী।তারা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।একপর্যায়ে গভর্নর এলাকা ত্যাগ করেন।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, কোনো কারণ না দেখিয়ে বা নোটিশ না দিয়েই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক তাদের পুনর্বহাল করছে না। তাদের ভাষ্য, “দীর্ঘদিন আমরা ব্র্যাক ব্যাংকে সেবা দিয়েছি। অথচ হঠাৎ করেই জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত।”

এক নারী কর্মী বলেন, “এই বয়সে চাকরি হারিয়ে পথে বসেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচবার চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। এখন পাঠাও চালিয়ে জীবন চালাতে হচ্ছে।”

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেও মানববন্ধন করেছিলেন চাকরিচ্যুত কর্মীরা। ৯ ফেব্রুয়ারির সেই কর্মসূচিতে দাবি জানানো হয়, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২,৫৫৩ জন কর্মীকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও বিষয়টি উঠে এসেছে।

তদন্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা আরও বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংকের স্লোগান 'আস্থা অবিচল', অথচ বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি।”

চাকরিচ্যুত কর্মীদের দাবিগুলো হলো—

  • অবিলম্বে পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ প্রদান

  • দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা

  • ভবিষ্যতে অন্যায় প্রতিরোধে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া চালু

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পারফর্ম করতে না পারা কিছু কর্মীকে নিয়ম মেনেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারাই এখন এসব করছে।”

মতামত দিন