জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে কাঁচিকাটায় মানববন্ধন।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর চর এলাকায় বালুমহাল ইজারার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নদীভাঙনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, বালু উত্তোলন শুরু হলে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে।

এ দাবিতে তারা মানববন্ধন করেছেন এবং স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন।

শনিবার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জানা গেছে, পদ্মা নদী বেষ্টিত কাঁচিকাটা ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। কয়েক দফায় নদীভাঙনে অনেক পরিবার তাদের সহায়-সম্পদ হারিয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন চরাঞ্চলের ২২ দশমিক ৬৩ একর ভূমিকে বালুমহাল হিসেবে ঘোষণা করে সমীক্ষার কাজ শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, প্রস্তাবিত এলাকায় পর্যাপ্ত বালু রয়েছে এবং সঠিক পদ্ধতিতে বালু অপসারণ করা হলে ভাঙন রোধ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সেখানে বালু তুললে ভাঙন আরও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন বলেন, “দুইবার ভাঙনে সব হারিয়েছি। এবার বালু তোলা হলে আর কিছুই থাকবে না। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা সবই নদীতে চলে যাবে।”

একই আশঙ্কা তুলে ধরেন রাহেলা বেগম। তিনি বলেন, “আরেকবার ভাঙলে কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। বালু কাটার কাজ বন্ধ করতে হবে।”

ভেদরগঞ্জ ইউএনও অনিন্দ্য মন্ডল জানান, বালুমহাল ঘোষণার আগে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের ভাঙনের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারেক হাসান বলেন, “বালু তোলা হলে ভাঙন বাড়বে কি না, সেটা দেখেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সব দপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মতামত দিন