বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।
সব জল্পনা-কল্পনা ও জটিলতা অতিক্রম করে অবশেষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাধারণ সদস্যরা এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মালয়েশিয়া সরকারের ইতিবাচক অবস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপদেষ্টাদের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তবে রিক্রুটিং খাতের একটি অংশের নেতিবাচক অবস্থান এবং অস্থির বক্তব্যের কারণে শ্রমবাজারে বিলম্ব ঘটছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বায়রার একাধিক সদস্যের ভাষ্য, জনশক্তি খাত নিয়ে অহেতুক বিতর্ক, সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়ায় দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। অন্য ১৩টি দেশ ইতিমধ্যে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু করলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
বায়রার সদস্যরা বলছেন, যেকোনো যৌক্তিক শর্ত মেনে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বিদেশি শ্রমবাজার নিয়ে অযাচিত সমালোচনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত শর্ত আরোপ করে সরকারকে বিব্রত করা ঠিক নয়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় মালয়েশিয়া। এরপর একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফর করেন।
বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ফলে মালয়েশিয়ায় চাহিদা বেড়েছে বিদেশি শ্রমিকের। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার সুযোগে মালয়েশিয়ায় চীনা বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় শ্রমবাজারে তৈরি হয়েছে নতুন সুযোগ, যা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে প্রায় ১২ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে দেশটির আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও সমন্বয়ের অভাব শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।
অতএব, অভ্যন্তরীণ বিভাজন না বাড়িয়ে যৌথভাবে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন