চিরকুটে শেষ কথা লিখে না ফেরার দেশে ঢাবি শিক্ষার্থী পিনাক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পিনাক রঞ্জন সরকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর হাতিরপুলের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পিনাক রঞ্জনের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়। তিনি চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শিশু ও বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত চিত্রাঙ্কন শেখাতেন।
পিনাকের সহপাঠী অর্ণব চন্দ্র দেব জানান, সোমবার রাতে পিনাকের ফেসবুক মেসেঞ্জার নোটসে “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়” — এমন একটি বার্তা দেখতে পেয়ে রুমমেট জাহিদুল ইসলামকে জানান। অফিস শেষে বাসায় ফিরে জাহিদ দেখেন, পিনাকের রুম ভেতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পিনাকের মরদেহ উদ্ধার করে।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, হাতিরপুল ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ৩৮৭/৫ নম্বর ভবনের ৯ম তলার একটি ফ্ল্যাটে পিনাক ও তার রুমমেট জাহিদ একসঙ্গে থাকতেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি ও ফেসবুক পোস্টে “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়” — এমন বার্তা পাওয়া গেছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এক সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মানসিক যন্ত্রণায় পিনাক আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।
এসআই ইকবাল বলেন, “এক মাস আগে সম্পর্ক ভাঙার পর মানসিকভাবে তিনি কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। ইতোমধ্যে একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।”
পিনাকের রুমমেট জাহিদ হাসান বলেন, “সম্পর্ক ভাঙার পর কিছুদিন মন খারাপ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাকে স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবে, তা ভাবিনি।”

মতামত দিন