জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াসার পানিতে পোকা-ময়লা, দুর্গন্ধ; চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রাজধানীবাসী।

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে ভয়াবহ দূষণের প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন, যেখানে পানির সঙ্গে পোকা,তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত তরল উপাদান পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে শুধু দুর্বিষহই করছে না, বরং স্বাস্থ্যগত দিক থেকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে পরিবার-পরিজনসহ শিশুদেরও।

বিশেষ করে রাজধানীর মগবাজার,বাংলামটর,তেজগাও,মালিবাগ,মধুবাগ,বাসাবো,কল্যানপুর, এলাকায় বসবাসরত নাগরিকরা অভিযোগ করছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসার পানি ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন; কোথাও পানির রঙ হলুদাভ, কোথাও লাল ছোট লম্বা সুতার মতো পোকা, আবার কোথাও আবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে জীবন্ত ছোট কেচো জাতীয় পোকা,যা পান করার তো দূরের কথা—রান্না বা গোসলেও ব্যবহার করা ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্ম দিচ্ছে।

মুগদার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, "প্রতিদিন সকালে কল খুললেই দেখি, পানির মধ্যে কী যেন ভাসছে—কখনও মরা পোকা, কখনও ছাঁচ ধরা ধরনের কিছু; বাচ্চারা গোসল করতে ভয় পায়, আর আমরাও রান্নায় এই পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।"
মধুবাগ  বাসিন্দা রাশেদ হোসেনের অভিযোগ আরও তীব্র: "পানি ফুটিয়েও দুর্গন্ধ যায় না; ফিল্টার দিয়েও পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না—আমরা কোন দেশে বাস করছি?"

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওয়াসার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দাবি, পোকার অভিযোগ যেসব এলাকা থেকে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে কর্মী পাঠিয়ে পানি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। পরীক্ষা করে কোনো পোকা পাওয়া যাচ্ছে না। পোকাগুলো বাসাবাড়িতে ভূগর্ভস্থ বা ছাদের ট্যাংকে হতে পারে। ট্যাংক পরিষ্কার করলেই এ সমস্যা থাকবে না।

ফাতেমা তুজ জোহরা নামের খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকার ৮ নম্বর সড়কের এক বাসিন্দা বলেন, ১৫-২০ দিন ধরে পানির সঙ্গে লাল কেঁচো ও সাদা লার্ভার মতো পোকা আসছে। সম্প্রতি দুবার বাসার দুটি ট্যাংক পরিষ্কার করানো হলেও সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানি কিনে খাচ্ছেন।

ঢাকা শহরের সাধারণ নাগরিকদের একটাই প্রশ্ন—যেখানে তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে ওয়াসার পানি নিচ্ছেন, সেখানে কেন তারা নিরাপদ পানি পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন?

কেনো দিনের পর দিন একই সমস্যা চলতে থাকলেও প্রতিবারই শুধু সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়া হয়?

অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা, কারণ—পানির মতো জীবনঘনিষ্ঠ ও মৌলিক অধিকার নিয়ে এভাবে খেলা চলতে পারে না।

মতামত দিন