খেলা-ধুলা
ছবি: সংগৃহীত

অধিনায়ক লিটনের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ব্যাট হাতে পারফরম্যান্সে ভাটা। একের পর এক ম্যাচে রান না পেয়ে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ লিটন কুমার দাস।
অনেকেই তার দলে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই চাপে জর্জরিত সময়েই নেতৃত্বের ভার তুলে নেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে দেখালেন নেতৃত্বের অন্য এক রূপ—ক্ষুরধার কৌশল, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত আর দুর্দান্ত মাঠ নিয়ন্ত্রণে ক্যারিবীয়দের দিলেন হোয়াইটওয়াশের স্বাদ।

তারপর আমিরাত আর পাকিস্তান সফর মিলিয়ে কিছুটা ধুঁকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা সিরিজ। এবার দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেও বাংলাদেশ সিরিজ জিতে নিয়েছে আগেভাগেই, সামনে সুযোগ হোয়াইটওয়াশ করার। আর সেই কাজটা হলে, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন  ম্যাচের সিরিজে ঘরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের নজির গড়বেন লিটন।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এর আগে দেশের বাইরে কেবল একবারই তিন ম্যাচের সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছিল টাইগাররা। ২০১২ সালে মুশফিকের নেতৃত্বে সহযোগী দেশ আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০২৩ সালে ঘরের মাঠে সাকিব আল হাসানের দল ৩-০তে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। আর এবার লিটনের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর পাকিস্তানকে হারানোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক হিসেবে ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিটন। বাংলাদেশ দলের ইতিহাসে অন্তত ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন সাত অধিনায়কের মধ্যে জয়ের হারে সবার ওপরে আছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৮টিতে জয় পেয়েছেন, যার জয় শতাংশ ৫৩।

যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট একসময় ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা, সেই ফরম্যাটেই টানা চার ম্যাচ জিতে দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন লিটন দাস। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে হতাশা আর অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছিল দেশের ক্রিকেটকে, সেখানে এখন ফিরেছে আশার আলো।

মিরপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচে টাইগারদের লক্ষ্য একটাই—ক্লিন সুইপ। জয় এলেই অধিনায়ক লিটন কুমার দাস দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লিখবেন অনন্য এক অধ্যায়।

মতামত দিন