কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

"মাগুরার হাজরাপুরী লিচুর সাফল্য: জিআই সনদে কৃষকদের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত"।

মাগুরা সদর উপজেলার রাওতড়া গ্রামের মানুষের মতে, লিচু চাষে উপার্জন একেবারে আলাদা রকমের। লিচুর বাগান থেকে আসা টাকায় ছয় মাসের সংসার চলে, এমনকি অন্য কোনো ফসলের তুলনায় একসাথে এত নগদ অর্থ পাওয়া সম্ভব নয়।

মাগুরার বিভিন্ন অঞ্চলে লিচু চাষ এখন প্রধান আয়ের উৎস, আর এই সময়ে বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ ও বিক্রি চলছে জোরেশোরে।

মাগুরার স্থানীয় হাজরাপুরী লিচু বর্তমানে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে, যা এর স্বীকৃতি ও বাজার মূল্য বাড়াতে সহায়তা করবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মাগুরার হাজরাপুরী লিচুকে এই সনদ দিয়েছে,যা এলাকার কৃষকদের জন্য বড় একটি মাইলফলক।

হাজরাপুরী লিচুর ইতিহাস এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়,এটি ব্রিটিশ আমলে হাজরাপুর অঞ্চলে প্রথম রোপণ করা হয়েছিল। এর স্বতন্ত্র স্বাদ, রোগবালাই প্রতিরোধক্ষমতা এবং আগে পাকতে যাওয়ার সুবিধা বাজারে এর চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাগুরায় এ বছর ৬৬৯ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩১ হেক্টরই সদর উপজেলায়।

জিআই সনদ পাওয়ার ফলে হাজরাপুরী লিচুর বাজারমূল্য অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং এর চাহিদা বাড়বে, বিশেষত বিদেশি বাজারেও এর রপ্তানি সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই সনদকে কাজে লাগিয়ে লিচুর ব্র্যান্ডিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মাগুরার হাজরাপুরী লিচুর ব্যবসা আরও বিস্তৃত হবে, কৃষকদের আয়ের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মতামত দিন