জঞ্জাল থেকে 'কালো সোনা': কচুরিপানা রূপ নিচ্ছে পরিবেশবান্ধব পণ্যে।
কেনিয়ার জলাশয়গুলোতে এক সময় উপদ্রব হিসেবে বিবেচিত কচুরিপানা এখন রূপ নিচ্ছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায়। নাইরোবি-ভিত্তিক স্টার্টআপ হায়াপাক টেকনোলজিস এই জলজ উদ্ভিদকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছে পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য, যা বদলে দিচ্ছে স্থানীয় অনেক মানুষের জীবিকা।
প্রতিষ্ঠানটি নাইভাশা হ্রদ থেকে সংগ্রহ করা কচুরিপানা প্রথমে রোদে শুকিয়ে নেয়। এরপর তা মেশিনে গুঁড়া করে এক বিশেষ দ্রবণের সঙ্গে মিশিয়ে বানানো হয় পাতলা শিট। পরে সেগুলো শুকিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে খাম এবং গাছের টব তৈরিতে। হায়াপাক টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা জোসেফ এনগুথিরু জানিয়েছেন, তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং কার্বন নেগেটিভ।
দ্রুত বর্ধনশীল এই উদ্ভিদের আধিক্যে নাইভাশা হ্রদে মাছ ধরা, চলাচল, কৃষিকাজ এমনকি নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছিল। একই সঙ্গে এই কচুরিপানা মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, কচুরিপানার প্রভাবে কেনিয়ার হ্রদাঞ্চলে প্রতি বছর ১৫ থেকে ৩৫ কোটি ডলার ক্ষতি হয়, যা মাছ ধরা, পরিবহন ও পর্যটন খাতেই সবচেয়ে বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে হায়াপাক টেকনোলজিসের উদ্যোগ নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি কেবল পরিবেশ রক্ষার বিকল্প উপায় নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে।
মতামত দিন