কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা: জাফরান চাষে সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বাংলাদেশে।

জাফরান—বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা। দেখতে খুব সাধারণ একটি ফুল হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে সুবাস, স্বাদ, রং এবং মূল্যবান স্বাস্থ্যগুণ।

এই মসলাটি মূলত বেগুনি রঙের একটি ফুলের গর্ভমুণ্ড শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সতর্ক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয় ফুলটি, যাতে গাছের ক্ষতি না হয়। এরপর সূর্যের আলোতে শুকিয়ে তৈরি হয় জাফরান।

মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলে জাফরান উৎপাদিত হয়। ইরান, ভারত, পাকিস্তান এবং আশপাশের কিছু অঞ্চলে এর চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভারতের কাশ্মীরের পামপোর অঞ্চলকে ধরা হয় জাফরান চাষের শ্রেষ্ঠ জায়গা। এখানে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এই ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। কাশ্মীরি জাফরানে ‘ক্রোসিন’ নামক একটি উপাদান উচ্চমাত্রায় থাকে, যা বিভিন্ন চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যখন ফুলটি উজ্জ্বল বেগুনি রং ধারণ করে, তখনই তা সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফুল থেকে গর্ভমুণ্ড আলাদা করে রোদে শুকানো হলে তবেই মসলাটি প্রস্তুত হয়। দামি হওয়ার কারণেই একে ‘স্বর্ণের চেয়েও মহামূল্যবান’ বলা হয়। বিশ্ববাজারে প্রতি পাউন্ড কাশ্মীরি জাফরানের দাম ৬০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। খুচরা বাজারে এই দাম ১২ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

জাফরান রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও রয়েছে ভেষজ গুণ, যার কারণে এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। রান্নার স্বাদ, রং এবং গন্ধে আনতে পারে বৈচিত্র্য।

এতদিন ধরে শুধু শীতপ্রধান অঞ্চলেই এর চাষ সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশেও এর সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কক্ষে জাফরানের ফুল ফোটাতে সক্ষম হয়েছেন।

অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের মতে, খোলা জায়গার তুলনায় ঘরের ভেতর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও এতে আবহাওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি মনে করেন, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশেও লাভজনক বাণিজ্যিকভাবে জাফরান উৎপাদন সম্ভব। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যে কেউ এই মসলার চাষে যুক্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠতে পারে জাফরান—শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও উৎসাহ।

মতামত দিন