গার্মেন্টস ছেড়ে মাশরুম চাষে সফলতার পথে রংপুরের আবুল কালাম।
পরিশ্রমের তুলনায় স্বল্প বেতনের চাকরি করে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকার মো. আবুল কালাম। তাই চাকরি ছেড়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আবুল কালামের বাড়ির আঙিনায় একটি ঘরে বাঁশের তৈরি র্যাকে সারি সারি ঝুলানো মাশরুমের প্যাকেট। প্যাকেট ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে সাদা-ধবধবে মাশরুম, যা দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি বাজারে বিক্রিযোগ্যও। তার স্ত্রী ছাড়াও ৬–৭ জন শ্রমিক প্রতিদিন এই খামারে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে বেকারদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাশরুম চাষে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। গার্মেন্টস চাকরি ছেড়ে ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহী হন এবং মাগুরায় গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। ওই বছরের নভেম্বরে মাত্র ২০টি স্কল দিয়ে শুরু করেন এই চাষ। খরচ হয় দেড় লাখ টাকা। এরপর ঢাকা মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিন লাখ টাকার উপকরণ সহায়তা পান। বর্তমানে তাঁর খামারে স্কলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০।
প্রতিদিন গড়ে ৫ কেজি মাশরুম উৎপাদন করে তিনি পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা কেজি দরে। যদিও রংপুর অঞ্চলে এখনো মাশরুমের চাহিদা তুলনামূলক কম, তবে তিনি বিশ্বাস করেন ভবিষ্যতে বাজার বাড়লে আয়ও বাড়বে।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া আক্তার জানান, আবুল কালাম একজন উদ্যমী ও প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তা। তিনি চোবহানবাগ সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁর চাষ পদ্ধতি আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত। মাশরুমের পিউর কালচার, মাদার কালচার ও বাণিজ্যিক স্পন তৈরি করার দক্ষতাও রয়েছে তাঁর।
তাঁর সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে সরকারিভাবে একটি ইনকুলেশন ঘর, চাষ ঘর, ভেন গাড়ি, দুটি স্টেরিলাইজেশন চেম্বার এবং নজেলযুক্ত স্প্রে সিস্টেমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্যোক্তা আবুল কালাম এখন নিজের শ্রম আর নিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বপ্ন দেখছেন।
মতামত দিন