শীত উপেক্ষা করে হাওড়ে নেমেছেন কৃষকরা, বোরো আবাদে ব্যস্ত মৌলভীবাজারের কৃষকরা
পানি নামতে শুরু করতেই মৌলভীবাজারের হাওড়জুড়ে বদলে গেছে চিত্র। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের প্রণোদনার বীজ ও সার পাওয়ায় এবার বোরো আবাদে আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাঠে কাজের ব্যস্ততার মাঝেই কৃষকদের ভাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে একটি বিষয়—রোপণের পর পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে তো?
হাওড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর হতেই কৃষকরা নেমে পড়ছেন কাজে। কেউ লাঙল দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আবার হালি পদ্ধতিতে চারা বসাচ্ছেন। পৌষের কনকনে ঠান্ডা তাদের কাজে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে প্রায় সাত হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের উফশী ও হাইব্রিড বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছে বিভাগটি।
তবে মাঠের বাস্তবতা নিয়ে কৃষকদের বক্তব্য ভিন্ন। কৃষকরা জানান, বর্তমানে নালা ও ডুবার পানি দিয়েই চাষ শুরু করতে হচ্ছে। রোপণের পর যদি পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
হাওড় রক্ষা আন্দোলনের মৌলভীবাজার সদর শাখার সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান ছাড়া হাওড়াঞ্চলে বোরো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কিছু এলাকায় সাময়িক পানি সংকট দেখা দিতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আবহাওয়া বোরো চাষের পক্ষে রয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ হবে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান।

মতামত দিন