কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেল ৮০ কৃষকের ৪১ একর ধান।

জীবনের শেষ সম্বল ৩৬শতক জমিতে ঋণের টাকায় ধান চাষ করেছিলেন রংপুরের পীরগাছার কৃষক দীননাথ চন্দ্র বর্মণ। সেই ধান এখন পুড়ে ছাই—ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে।

খাবারের চিন্তা, ঋণ শোধের দুশ্চিন্তা, আর ক্ষতিপূরণ চাইতে গিয়ে হুমকিতে এখন দিশেহারা দীননাথ।

একই অবস্থা অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দারপাড়ার আরও অন্তত ৮০ কৃষকের। তাঁদের ৪১ একর জমির বোরো ধান মমিনুল ইসলামের পরিচালিত এমএসবি ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে গেছে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও ফল হয়নি।

প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শতকপ্রতি ৫০০ টাকা হিসেবে ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হলেও তা এখনো দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ভাটা মালিক তা এড়িয়ে যাচ্ছেন।এতে কৃষকেরা আজ উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ধানক্ষেতগুলো সাদা-শুকনো হয়ে গেছে। ভাটায় এখনো পোড়ানো হচ্ছে প্লাস্টিক, জুতা ও মেডিকেল বর্জ্য।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নিখিল চন্দ্র বলেন,দাদা মুই গরিব মানুষ একনাই মোর সম্বল “তাক পুড়ি ছাই হইছে।ক্ষতিপূরণ চাইলেও ভাটা মালিক ভয় দেখায়।” কৃষক সুশান্ত চন্দ্র বলেন, “ভাটা মালিক মমিন বিএনপি নেতা হওয়ায় বিচার চাইতেও ভয় পাই।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে ৪১ একর জমির ক্ষতি পাওয়া গেছে। ইউএনও নাজমুল হক বলেন, “ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে, মালিককে দিতে হবে।”

ভাটা মালিক মমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রকৃত ক্ষতি এত নয়, আপিল করেছি। হুমকি দিইনি।” তিনি আরও বলেন, “ইটভাটা চালাতে প্লাস্টিক পোড়াতেই হয়।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মণ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত আইনগত  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতামত দিন