রাজশাহীতে আলু চাষে সার সংকট, কৃষক ও ডিলারের মধ্যে উত্তেজনা।
রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় আলু চাষ শুরু হলেও সার সংকটের কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। বাগমারা উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের একজন জানান, গত বছরের লোকসানের পর এবার আলু চাষের পরিকল্পনা আছে, কিন্তু অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার পাচ্ছেন না।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, কিছু মুনাফালোভী ডিলার সরকারি বরাদ্দ সার রাতের অন্ধকারে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। ফলস্বরূপ, লাইনে দাঁড়িয়েও সঠিক পরিমাণে সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে একজন কৃষককে এক বা দুই বস্তার বেশি দেওয়া হয় না, যা আলু ও শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অপ্রতুল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট আলু উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ টন, যার মধ্যে রাজশাহী ও রংপুরে প্রায় ৮৭ লাখ টন। চলতি মৌসুমে এই দুই বিভাগে ৩ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষের জন্য ২ বস্তা এমওপি, ১ বস্তা ডিএপি ও ১ বস্তা টিএসপি প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ অনেক কম, যা যথেষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় নভেম্বরের বরাদ্দ ছিল এমওপি ১৪ হাজার ৫৫১ টন, ডিএপি ২৫ হাজার ২৮১ টন এবং টিএসপি ৯ হাজার ৫৭০ টন।
ডিলাররা জানান, সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কৃষকদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা বাধ্য হয়ে সরকারি দামের চেয়ে বেশি খরচ করে বাজার থেকে সার কিনছেন। এতে সময় ও অর্থের ব্যয় বেড়ে গেছে, এবং জমিতে সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আলু চাষের শুরুতেই যথাযথ সার প্রয়োগ না হলে গাছের প্রাথমিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে, যার প্রভাব পুরো মৌসুমের ফলনে পড়বে। একই সঙ্গে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট ছাড়া গোপন স্থানে সার মজুত করে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন, যা কৃষকদের জন্য আরও সমস্যা তৈরি করছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবিনা বেগম বলেন, “সারের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় কৃষকরা অনেক বেশি ব্যবহার করছেন। ডিএপি ও এমওপি একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তবে কৃষকদের ক্যাশ মেমো নেয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম নেওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

মতামত দিন