কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

মির্জাগঞ্জে বাঁধ ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৯ গ্রামের ৫০০ একর আমনক্ষেত।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হাজিখালী খালের বাঁধ ভাঙায় জোয়ারের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে ৪নং দেউলী–সুবিদখালী ইউনিয়নের কৃষকের শেষ ভরসা। টানা কয়েকদিন ধরে খালের মুখে সৃষ্ট ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে নয়টি গ্রামের প্রায় পাঁচ শত একর আমন জমি এখন পুরোপুরি ডুবে আছে।

মাঠজুড়ে শুধু পানি, ধানের শীষ দেখা যায় না।

সোমবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিরা। স্বাক্ষর করেছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আইউব খান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, কৃষকদলের সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফারুক খান, সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেনসহ আরও অনেকে।

হাজিখালী খালের প্রবাহ আসে পায়রা নদীর শাখা থেকে, মেন্দিয়াবাদ–হাজিখালী সংযোগস্থল হয়ে দেউলীর বেবেরদোন নদীতে গিয়ে মিশেছে। মাঝেমধ্যে রানীপুর, মুসুদা, বোয়ালিয়াসহ বেশ কিছু শাখা খাল থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ছিল একটি সুয়েজ ও দুই প্রান্তের বাঁধের ওপর। এই ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করে হাজিখালী, গোলখালী, সাতবাড়িয়া, লেমুয়া, চত্রা, দেউলী, চরখালীসহ পুরো এলাকার কৃষি সেচ। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর জোয়ারের পানি প্রতিদিন আরও ওপরে উঠছে, পুরো আমন মৌসুম অনিশ্চয়তার মুখে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, আমন কখনোই জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। গ্রামের মহাবুব নামের এক কৃষক জানান, “আমাদের সবকিছুই এই ধানের ওপর। অনেকের মাথায় আবার ঋণও আছে। পানি নেমে না গেলে একমুঠো ধানও ঘরে যাবে না।”

কৃষকদলের উপজেলা সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন বলেন, “উপকূলে আমাদের আর কোনো বিকল্প মৌসুম নেই। এই এক ফসলের ক্ষতি মানে সমগ্র এলাকার কৃষকই পথে বসবে। পরে রবি মৌসুমে ডাল, বাদাম, আলু, সূর্যমুখী—কিছুই আবাদ করা সম্ভব হবে না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. মলিহা খানম জানিয়েছেন, আবেদন পেয়েছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন