কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় আমনের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি, জমিতে উৎসবের আমেজ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

এ বছর ওই উপজেলা জুড়েই আমনের বিপুল ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বহুদিন পর এমন প্রাচুর্য দেখছেন।

ধান কাটার মৌসুমে এলাকার প্রতিটি গ্রামে এখন ব্যস্ততা আর খুশির রঙ—কারও মাঠে ধান কাটা চলছে, কেউ মাড়াই করছে, কেউ আবার শুকিয়ে ঘরে তুলছে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে এ যেন চিরায়ত কৃষি বাংলার পরিচিত দৃশ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বর্ষা এবং উন্নত জাতের ধান ব্যবহারের কারণে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে। গত বছরের বন্যায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বাড়ায় তাও একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি—কিন্তু আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৭ হেক্টরে।

স্থানীয় অনেক কৃষকই বলছেন, এবার উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম লেগেছে। কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম হওয়ায় কীটনাশকের খরচ কম পড়েছে, আবার আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। লাভের আশা তাই সবার মুখে।

দুলালপুর ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, দু’বিঘা জমিতে ধান করেছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে সেটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলন দেখে এখন তিনি বেশ সন্তুষ্ট।

আরেক কৃষক বলেন, ‘এইবারের মতো এত কম খরচে এত ধান কখনো হয় নাই। অনেক দিন পর এমন ফলন পাইছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মুখলেছুর রহমান জানান, আবহাওয়া পুরো মৌসুমে অত্যন্ত সহায়ক ছিল, ফলে ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রি ধান-১০৩ জাতটি সবচেয়ে ভালো ফলন দিয়েছে। আগামী মৌসুমে কৃষকরা এই জাত চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “মাঠ এখন সম্পূর্ণ অনুকূলে। ফসল ঘরে তোলার পরিবেশ ভালো থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।”

মতামত দিন