মৌলভীবাজারে রোপা আমনের বাম্পার ফলন, আনন্দে ভাসছেন কৃষক।
মৌলভীবাজারে আবহাওয়া চাষের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত থাকায় এই বছর রোপা আমনের ফলন অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়েছে। কৃষকেরা আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে ধান কাটা এবং মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সদরের খাঞ্জার হাওড় ও কাউয়াদিডহ হাওড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে সোনালি ধানের সমারোহ। হাওড় জুড়ে পাকা ধানের শীষ বাতাসে দুলছে, যা কৃষকদের আনন্দে ভাসাচ্ছে। সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রচেষ্টায় এ বছর পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে সাড়ে চার মেট্রিক টন। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কৃষকেরা কাস্তের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে দ্রুত ধান কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ ধান ঘরে তোলা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের কারণে অনেক কৃষক ধানের পরবর্তী চাষ, যেমন সরিষা চাষের প্রস্তুতিতেও হাত দিয়েছেন।
খাঞ্জাইর হাওড় এলাকার কৃষক স্বপন ও বাছির জানান, অসময়ের অতিবৃষ্টির কারণে কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও মোট ফলন সামগ্রিকভাবে ভালো হয়েছে। তবে তারা ধান বিক্রি করে খরচ মেটানোর ব্যাপারে এখনও চিন্তিত।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটার সঙ্গে সরকারের সহায়তার কারণে এ বছর ধানের উজ্জ্বল ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রতিবছরই ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ থাকে। তাই কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ধান ভালোভাবে শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করে পরে উচ্চ দামে বিক্রি করার জন্য।”
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মৌলভীবাজারে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮,০৩৫ মেট্রিক টন। বাস্তবে উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৯১,৫৯ মেট্রিক টন চাল, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তিনগুণের বেশি।

মতামত দিন