কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার হিমাগারে গুলোতে সংরক্ষিত লাখ লাখ বস্তা আলু,বিপাকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বগুড়া জেলার হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত লাখ লাখ বস্তা আলু এখন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমাগারে রাখা আলু বাজারে দাম না থাকার কারণে বিক্রি হচ্ছে না, ফলে হিমাগার মালিকরাও সমস্যার মুখে।

জানা গেছে, হিমাগারে রাখা ৬০ কেজির একটি আলুর উৎপাদন ও সংরক্ষণ খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা হলেও বাজারে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে কৃষকরা প্রতি বস্তায় গড়ে ৭০০ টাকারও বেশি লোকসান গুনছেন। গত বছর এই সময়ে হিমাগার থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ আলু বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু এবার তা ৪০ শতাংশেরও নিচে।

বগুড়ার ৪২টি হিমাগারে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার গত বছরের উৎপাদন ছিল ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৬ টন, যা ৫৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ প্রতি কেজিতে ১৪ টাকা হলেও হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কেজিতে খরচ দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৫ টাকা। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকায়, ফলে পুঁজি হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

হিমাগার মালিকরা জানাচ্ছেন, লোকসান এড়াতে কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু তুলছেন না। শিবগঞ্জের কৃষক আবুল কালাম বলেন, হিমাগারে রাখা ১০০ বস্তা আলু থেকে এখনও হাতে এসেছে মাত্র ২৮ হাজার টাকা, যা মৌসুমে বিক্রি করলে প্রায় ৬০ হাজার টাকা হত।

বগুড়া জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক বলেন, “কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”

উপপরিচালক সোহেল মো. শামছুদ্দীন ফিরোজ বলেন, “বাজারে দাম না থাকায় কৃষকরা আলু তুলতে আসছেন না। এ কারণে হিমাগারে থাকা আলুর বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

মতামত দিন