রংপুরে আমন ধানে পোকা ও রোগের থাবা, চিটা ধরেছে প্রায় ৩০ শতাংশ শিষে।
বিস্তীর্ণ রংপুরজুড়ে এখন আমন ধানের মাঠ পেকে উঠছে। তবে অনেক ক্ষেতেই দেখা যাচ্ছে শিষ কালো হয়ে গেছে, গোড়ায় পচন ধরেছে। চাষিরা বলছেন, এ অবস্থায় ফলন অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি গাছে চার-পাঁচটি শিষের মধ্যে বেশির ভাগেই কালো দাগ দেখা যাচ্ছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে দানা শুকিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ একাধিকবার কীটনাশক ব্যবহার করেও ফল পাচ্ছেন না। তাঁদের ধারণা, যেখানে এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ মণ ধান হওয়ার কথা ছিল, এবার তা নেমে আসবে ৫ মণেরও নিচে।
কৃষকদের অভিযোগের জবাবে কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছি, যাতে তারা দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রোগবালাই বাড়ছে। তিনি বলেন, “জমিতে পানি ধরে রাখলে তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধানের ক্ষতি কমানো সম্ভব।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ৬ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। তবে শেষ মুহূর্তের এই রোগ-পোকার আক্রমণে লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এখন শঙ্কায় কৃষক ও কর্মকর্তারা দু’পক্ষই।

মতামত দিন