কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বৈঠাকাটার শতবর্ষী ভাসমান বাজারকে ‘অ্যাগ্রো ইকো ট্যুরিজম’ করার উদ্যোগ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা নদীর বুক জুড়ে সকাল হতেই দেখা যায় শত শত নৌকার সমাবেশ। ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম নদীর এই অংশ যেন পানির ওপর ভেসে থাকা এক ক্ষুদ্র গ্রাম।

এটিই দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভাসমান বাজার—বৈঠাকাটা হাট, যেখানে পুরো বেচাকেনার কাজই হয় নৌকায় বসে।

স্থানীয় কৃষকেরা তাদের ক্ষেতের তাজা শাকসবজি, ফলমূল আর চারা বোঝাই করে নিয়ে আসেন নৌকায় করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার প্রধান পরিবহন মাধ্যমই নৌকা,তাই পণ্য নামানোর ঝামেলা না করে নৌকাতেই চলে কেনাবেচা।কাছাকাছি এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা নদীপথে এসে এখানকার কৃষিপণ্য কিনে নিয়ে যান।

স্থানীয় কৃষক বলেন, ‘এই বাজারের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর। আমাদের পূর্বপুরুষরাও তাদের উৎপাদিত ফসল এখানে বিক্রি করতেন। এখানকার দাম তুলনামূলকভাবে কম, আর মান ভালো—তাই দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসে।’

বাজারটিতে সবজির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান, পাট, ডালসহ নানা শস্যের বেচাকেনা হয়।সপ্তাহে দুদিন—শনিবার ও মঙ্গলবার—এ বাজার বসে, যেখানে বিক্রির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়।

বাগেরহাট থেকে আসা পাইকার দোকানদার জানান, ‘বছরের এই সময় বৈঠাকাটার সবজি ও চারা অনেক জনপ্রিয়। আমরা এখান থেকে কিনে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করি। তবে বাজারে এখনো স্যানিটেশন বা বিশ্রামের ভালো ব্যবস্থা হয়নি, যা উন্নয়ন দরকার।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঐতিহ্যবাহী বাজারকে ‘অ্যাগ্রো ইকো ট্যুরিজম’ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল হাসান বলেন, ‘বৈঠাকাটা এখন শুধু কৃষিপণ্যের বাজার নয়, বরং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিলে বাজারটিকে কৃষিভিত্তিক ইকো ট্যুরিজম এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আলোচনা চলছে।’

বেলুয়া নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বৈঠাকাটার এই ভাসমান হাট আজও গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত—যেখানে নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে মানুষের জীবন, জীবিকা ও ঐতিহ্যের গল্প।

মতামত দিন