লক্ষ্মীপুরে এবার সুপারির বাম্পার ফলন,সন্তুষ্ট চাষি-ব্যবসায়ীরা।
লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে সুপারির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক চাষপদ্ধতি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চাষিরা এই বছরের ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট।
রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজারকে জেলা জুড়ে সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার হিসেবে ধরা হয়। এখানে সপ্তাহে দু'দিন লাখ লাখ টাকার সুপারি লেনদেন হয়।চাষি ও ব্যবসায়ীরা সক্রিয়ভাবে বেচাকেনা করছেন।
বাজারে এই অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কিছুটা দাম কমেছে। গত বছর প্রতি পোন (৮০ পিস) সুপারি বিক্রি হয়েছিল ১৮০–২০০ টাকায়, যেখানে এ বছর ১২০–১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনে করছেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দাম কমেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, ফলন বাড়ার ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম স্বাভাবিকভাবেই কমেছে।
সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের চাষি বলেন, "অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তবে দাম যদি বেশি থাকতো, লাভ আরও বাড়তো।" আর রায়পুর উপজেলার হোসেনআলী জানান, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে ১৫ গন্ডা জমিতে সুপারির বাম্পার ফলন পেয়েছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুরের আরেক চাষি বলেন, "ফলন ভালো হলেও বাজার দর কম থাকায় আমরা কিছুটা হতাশ।" অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, "জেলার সুপারি মান ও স্বাদে ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। দাম কম হলেও আমরা লাভবান হচ্ছি।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জহির আহমেদ বলেন, "লক্ষ্মীপুরে সুপারি অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত জাতের চারা বিতরণ ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের কারণে আশা করা যাচ্ছে, সুপারি থেকে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি আয় হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপারি ভিত্তিক শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

মতামত দিন