কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ে সম্ভাবনার ফসল মিষ্টিকুমড়া, বদলে যাচ্ছে আলীকদমের কৃষকদের জীবন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানের আলীকদম পাহাড়ি অঞ্চল—এক সময় যেখানে কৃষকরা শুধু ঝুম চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেখানে এখন মিষ্টিকুমড়া চাষ খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। সামান্য বিনিয়োগ, কম পরিশ্রম আর বাজারে স্থিতিশীল দামের কারণে এই ফসল এখন স্থানীয় কৃষকদের অন্যতম পছন্দে পরিণত হয়েছে।

পাহাড়ী এলাকায় ঘুরলে চোখে পড়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছড়িয়ে থাকা কুমড়ার সবুজ লতা। কোথাও ঝুলছে কাঁচা ফল, কোথাও আবার পেকে উঠেছে বড় বড় মিষ্টিকুমড়া। কৃষকদের মুখে এখন আনন্দের ঝলক।

কৃষকরা জানালেন, সাত কানি জমিতে কুমড়া চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। “এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি, মাঠে এখনও কুমড়া আছে। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকার বেশি লাভ হবে,” বলেন তিনি।

আরেক কৃষক জানান কুমড়া চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তিন কানি ঢালু জমিতে ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে ইতিমধ্যে ৬১ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। তার হিসাব, সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকবে। তবে পরিবহন খরচ কিছুটা কমলে আয় আরও বাড়তো।

একই এলাকার আরও এক কৃষক বলেন, “মিষ্টিকুমড়ার যত্ন কম, ফলন বেশি। পাইকারি দরে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই পরের মৌসুমে জমি আরও বাড়াব।”

স্থানীয় আড়তদার জানান, “এবার উৎপাদন প্রচুর হয়েছে, কৃষকরা ভালো দামও পাচ্ছেন। আলীকদমের কুমড়া এখন পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও যাচ্ছে। সংরক্ষণ আর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হলে এ ফসল এখানকার অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।”

আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, “আলীকদমের মাটি ও আবহাওয়া মিষ্টিকুমড়ার জন্য আদর্শ। কৃষকরা এখন নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আমরা চাই আগামীতে এই ফসলটি বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারিত হোক।”

মতামত দিন