সাতক্ষীরার ঘের এখন সবুজ বাগান: মাছের সঙ্গে সবজিতে দ্বিগুণ লাভ।
সাতক্ষীরার কৃষকরা এখন নতুন আশার আলো দেখছেন। মাছের ঘেরের বেড়ি আর শুধু মাছ চাষের জায়গা নয় — এখন তা হয়ে উঠেছে সবুজে ঘেরা সবজির বাগান।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঘেরের চারপাশে বীজ বপন করে চারা রোপণ করা হয়েছে নানা প্রজাতির সবজি। কোথাও মাচায় ঝুলছে লাউ, করলা, চিচিঙ্গা, বরবটি আর কুমড়ো; কোথাও আবার প্লাস্টিকের সুতা টেনে তৈরি করা হয়েছে ঝুলন্ত ছাউনি। সবুজে ঘেরা সেই বেড়িবাঁধ এখন যেন একেকটি প্রাকৃতিক টানেল, যা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষে তারা এখন লাভের মুখ দেখছেন।একজন চাষি জানান, “আগে শুধু মাছ চাষ করতাম, এখন ঘেরের বেড়িবাঁধে লাউ, ক্ষিরাই আর উচ্ছে চাষ করি। মাছ বিক্রি হয়, সবজিও বিক্রি হয়— আয়ও দ্বিগুণ।”
চাষিরা জানালো “আগে বাজার থেকে সবজি কিনতাম, এখন নিজের ঘেরের বেড়ি থেকেই তাজা সবজি তুলি। নিজেদের খাওয়ার পরও বাজারে বিক্রি করতে পারি।”
কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, এই পদ্ধতি শুধু আয়ের নয়, টেকসই কৃষিরও উদাহরণ। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “ঘেরের বাঁধ একটু প্রশস্ত করে সবজি চাষ করলে, সেই আয় দিয়েই ঘেরের সব খরচ ওঠে যায়। আর মাছ বিক্রির টাকা থাকে পুরো লাভ।”
তিনি আরও বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সবজির চাহিদা মেটাতে এই চাষ বড় ভূমিকা রাখছে।” কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িতে সবজি চাষ হয়েছিল ৯৪০ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮ হেক্টরে— অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ পেলে এই পদ্ধতিই দেশের কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

মতামত দিন