কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

ফুলবাড়ীতে শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। মুলা, কপি, টমেটো, গাজর, শিম—সবজির নানা জাতের আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে এসব শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষাবাদ নির্বিঘ্নে এগোচ্ছে, আর নতুন ফসলের ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকের মুখে এখন হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আগাম শীতকালীন ফসলের আওতায় রয়েছে ৬৫০ হেক্টর জমি, যেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

কৃষকেরা মাঠে দিনরাত কাজ করছেন। কোথাও চলছে জমি তৈরি, কোথাও সার প্রয়োগ, আবার কোথাও বাজারে বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে আগাম ফসল।

এক জন চাষি বলেন, “খরার কারণে আগের গ্রীষ্মকালীন ফসলে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। তাই এবার শীতের শুরুতেই কপি চাষে মন দিয়েছি।” তিনি জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে আগাম বাঁধাকপি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ হবে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, আর বিক্রির আশা আড়াই লাখ টাকার মতো।

একই গ্রামের আরেক চাষি জানান, “ভাদ্র মাসের শুরুতেই শীতের ফসলের প্রস্তুতি নিতে হয়। এখন ৮০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি লাগানো হয়েছে। সময় মতো বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যাবে।” এরই মধ্যে শিম, মুলা, লালশাক, পুইশাক, বরবটি, টমেটো ও পালংশাক উঠেছে বাজারে।

আরেক কৃষক জানান গ্রীষ্মকালীন করলা ও কুমড়ার আবাদ শেষে একই জমিতে এখন শীতকালীন মুলা, টমেটো ও শিম চাষ করছেন। তিনি বলেন, “আগের ফসলে ফলন আশানুরূপ হয়নি। তাই দ্রুত জমি প্রস্তুত করে এবার আগাম সবজিতে ঝুঁকেছি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান জানান, আগের বছর লাভবান হওয়ায় এবার আরও বেশি চাষি আগাম সবজি আবাদে আগ্রহী হয়েছেন। তিনি বলেন, “ধান ও ভুট্টার পর ফুলবাড়ীতে সবজি উৎপাদনই এখন সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সরবরাহ হচ্ছে এখানকার সবজি।”

মতামত দিন