কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকেরা লাভে, নজর কাড়ছে স্থানীয় বাজারে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পাকুন্দিয়ার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদি গ্রামে এখন মাঠের পর মাঠে তরমুজের আবাদ দেখা যাচ্ছে। মৌসুম না হলেও একাধিক কৃষক অসময়ের তরমুজ চাষ করেছেন।

বাঁশের মাচায় ঝুলছে লাল-সবুজ রঙের তরমুজ। ভারে ছিঁড়ে না পড়ে প্রতিটি ফল নেট দিয়ে ঝুলানো হয়েছে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

একজন কৃষক জানালো প্রথমবারের মতো ৪০ শতাংশ জমিতে সুইটব্ল্যাক-২ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা, যা বিক্রি করে তিনি প্রায় সমপরিমাণ আয় করেছেন। পুরো মৌসুমে তার আয় হবে প্রায় ২ লাখ টাকা।

মৌসুমের বাইরে তরমুজের চাহিদা ও দাম বেশি। অন্য ফসলের তুলনায় লাভও অনেক বেশি। কৃষক বলেছেন, আগামীতে আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

এবার পাকুন্দিয়ার অন্তত ২৫ জন কৃষক অসময়ের তরমুজ চাষ করেছেন। জমির পাশে তাজা ও সুস্বাদু ফল বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পেয়ে খুশি সবাই।

চাষপদ্ধতিতে রয়েছে ভিন্নতা। জমিতে লম্বা মাচা তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে মার্চিং পেপার দিয়ে মাটি ঢেকে চারা লাগানো হয়। জৈব সার ব্যবহার করার কারণে আগাছা কম হয়। জুলাই মাসে চারা লাগানোর ৭০ দিনের মাথায় ফলন আসে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্য ফসলের তুলনায় অসময়ের তরমুজে ফলন বেশি, খরচ কম এবং লাভও ভালো। চন্ডিপাশা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মার্চিং পদ্ধতিতে মাটির গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে, রোগবালাই কম হয়, ফলে উৎপাদন বাড়ে।”

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নূর-ই-আলম জানান, “এ উপজেলায় এবার ১৫ বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে। বাজারমূল্য হবে অন্তত ৬০ লাখ টাকা।”

মতামত দিন