খুলনা অঞ্চলে কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর বিক্ষোভ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভিন্ন এলাকায় পাট রফতানিকারক ও শ্রমিকরা দ্বিতীয়বারের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া কাঁচাপাটকে শর্তযুক্ত রফতানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন ও পাট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি দেশে কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে। কিন্তু ভারত আমদানি বন্ধ করায় বর্তমানে ১১টি দেশে রফতানি হচ্ছে। শুধু দক্ষিণাঞ্চল থেকেই ১১ মাসে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে, যার মূল্য এক হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে বেলজিয়াম, কিউবা, মিশর, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেনসহ অন্তত ১৭ দেশে রফতানি বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দৌলতপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবে। দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “বাণিজ্য উপদেষ্টা ও তার পরিবার দেশে পাটপণ্য উৎপাদন ও রফতানির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তাই তাদের অনৈতিক সুবিধা দিতেই এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে কৃষকরা পাটের ন্যায্য দাম পাবেন না, শ্রমিকরা কাজ হারাবেন।”
পাট রফতানিকারক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হঠাৎ করেই বিশেষ শর্ত আর মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কাঁচাপাট রফতানির পরিপত্র জারি করে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে খুলনার দৌলতপুরে শ্রমিকদের মধ্যে কাজ হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য গাজী শরীফুল ইসলাম ওহিদ বলেন,“পরিপত্র জারির পর থেকে পাট রফতানি বন্ধ রয়েছে। কাস্টমস ক্লিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, বন্দরে আটকা পড়েছে পণ্য। কোথায় অনুমতি মিলবে বা শর্ত কী—কোনো কিছুই স্পষ্ট নয়।”
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ বেল কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছিল, যা থেকে আয় হয়েছিল এক হাজার ৯০৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মে পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে সাত লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৯ বেল, আয় হয়েছে এক হাজার ৯৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

মতামত দিন