কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে পেঁপের বাম্পার ফলন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লাভের হাসি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জে চলতি বছর পেঁপের চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পেঁপে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ অঞ্চলের কৃষক পর্যায়ে পেঁপের বাজারমূল্য প্রায় ১১০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কম খরচে দ্রুত ফলন পাওয়া যায় বলে দিনদিন এখানে পেঁপে চাষের পরিমাণ বাড়ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় চোখ ঘুরালেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা পেঁপের বাগান। কৃষকরা প্রতিনিয়ত ব্যস্ত; কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ গাছ থেকে পাকা পেঁপে সংগ্রহ করে বাজারে পাঠাচ্ছেন।

চাষিদের মধ্যে আনন্দের ছাপ; কারণ বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন তাঁরা। তবে তারা জানান, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হলে লাভের পরিমাণ অনেকটা কমে যেতে পারে। চাষিরা বলেন, “পেঁপে চাষ করলে অল্প সময়ে ভালো আয় সম্ভব। গাছ যদি সুস্থ থাকে, সারাবছর ফল পাওয়া যায়, আর বাজারে বিক্রি করলে লাভও আসে। সাধারণভাবে আড়াই কেজি পর্যন্ত ওজনের পেঁপে পাওয়া যায়।”

অপর এক চাষি জানান, “সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমাদের লাভ আরও বাড়বে। বিঘা প্রতি সঠিক যত্নে চাষ করলে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।”

কৃষকের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন। কারওয়ান বাজারের পেঁপে সরবরাহকারী জানান, “এখান থেকে ১০-১২ টাকা কেজি দরে পেঁপে কিনে ঢাকায় ১৪-১৬ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে ব্যবসায়ীরাও মুনাফা পাচ্ছেন।”

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান জানান, “চলতি বছর পেঁপের বাজার মূল্য প্রায় ১১০ কোটি টাকার মতো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ৮৯০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

উল্লেখ্য, এ বছর মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ৮৫৪ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। কৃষক ও আবহাওয়ার সহায়ক পরিস্থিতির কারণে এই খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হবে বলে মনে করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

মতামত দিন