দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিয়ত কমছে আবাদি জমি।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের আবাদি জমি প্রতিনিয়ত কমছে। দ্রুত নগরায়ণ, বসতি নির্মাণ, লবণাক্ততা এবং নদীভাঙন চাষযোগ্য জমিকে সংকুচিত করছে।
কৃষি বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার। এ সময় আবাদি জমি কমলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ার কারণে খাদ্য উৎপাদন প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেড়েছে। বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ ৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর, এবং অনাবাদি জমি প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া গ্রামের কৃষকরা বলেন, খালে নির্মিত ১৮টি বাঁধ ও কালভার্টের কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জমি চাষযোগ্য নয়। চরকাউয়ার সেলিম মীর জানান, ‘কালভার্ট দেয়ার পর থেকে পানি আটকে যাচ্ছে, জমি অনাবাদি পড়ছে।’ কৃষক সবুজ গাজী উল্লেখ করেন, বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং গরমের সময় খরা বেশি হচ্ছে। আজিজুল ব্যাপারী বলেন, ‘অনেক জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।’
কৃষি বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে আবাদি জমি প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর কমেছে। এর পেছনে দায়ী মূলত উন্নয়ন প্রকল্প, ইটভাটা, বসতি সম্প্রসারণ, লবণাক্ততা এবং নদীভাঙন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন সিডর, আইলা ও আম্পানও কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ গবেষণা ও সমন্বিত উদ্যোগে জোর দিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি করলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখা সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘গ্রামীণ বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমি এখন চাষে আনা হচ্ছে। উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করলে একই জমি থেকে ৪-৫ গুণ বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব।’
মতামত দিন