রাজশাহীতে বারোমাসি কাটিমন আমের চাষে জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
রাজশাহীতে বারোমাসি কাটিমন আমের চাষ দিন দিন বাড়ছে। মৌসুমের বাইরে ফলন পাওয়া যায় বলে স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা ক্রমবর্ধমান।
তানোর উপজেলার আলামিন ৫০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান করেছেন। তিনি জানান, ‘অন্যান্য আমের মৌসুম শেষ হলেও কাটিমনের বাজার থাকে জমজমাট। তাই আমাদের আয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’
রাজশাহীতে আরও অনেক কৃষক এখন এই জাতের আমের উৎপাদন বাড়াচ্ছেন। বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায়, তাই বাগান পরিচর্যায় বছরজুড়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। স্থানীয় কৃষক আবদুল হালিম বলেন, ‘আগে মনে করতাম আম শুধু মৌসুমে পাওয়া যায়। এখন কাটিমন বছরে কয়েকবার ফল দেয়, খরচও কম এবং দামও ভালো।’
সাইদুর রহমান যোগ করেন, ‘মুকুল ভাঙা ও পরিচর্যার কারণে ফল বড় হয় এবং স্বাদে অন্য জাতের চেয়ে আলাদা। তাই পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।’
সাধারণত দেশের বাজারে আমের মৌসুম মে থেকে জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু কাটিমনের মুকুল আসে মৌসুম ছাড়াও আরও দুইবার। ফলে ভরা মৌসুমেও ফলন বাড়ে এবং পাইকারি বাজারে দাম থাকে প্রতি কেজি ১৫০–৩০০ টাকা। ব্যবসায়ী শাহিন আলম বলেন, ‘মৌসুমের বাইরে যখন অন্যান্য আম পাওয়া যায় না, তখন কাটিমনই ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঠিক সহায়তা থাকলে কাটিমন আম আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিত হতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চীফ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ দিলে দেশের বাজার ছাড়াও রফতানিতে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যে জানা যায়, রাজশাহীতে বর্তমানে প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আমের চাষ হচ্ছে এবং বছরে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন।

মতামত দিন