কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে আখের ভালো ফলন হলেও চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জের সাত উপজেলার আখ চাষিদের মাঠে ধূমধাম চলছে। এবার আখের ভালো ফলন হলেও চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

আখ কাটা, আঁটি বাঁধা এবং পরিবহনের কাজ চলছেই।

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে রংবিলাস, গেন্ডারি, সুইং, বোম্বে, কুশুল, চানপুরা, নলঠেঙ্গা ও সাতাইশ প্রভৃতি আখের জাত প্রচুর উৎপাদিত হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, আখ চাষ লাভজনক, কিন্তু রোগ  বা বাজারে সমস্যা হলে ক্ষতি হওয়া খুবই সম্ভব। চাষি জাফর বলেন, “সরকার বাজার ও পরিবহন সুষ্ঠু রাখলে আমরা সম্পূর্ণ লাভবান হতাম।”

চাষিরা আরও দাবি করছেন, সার ও কীটনাশকের দাম কমালে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।একজন কৃষক জানান, “কীটনাশক, সার ও বীজের খরচ বেশি। দাম ঠিকভাবে নির্ধারণ করলে আরও বেশি আখ উৎপাদন করা যেত।”

মানিকগঞ্জের আখ জেলার চাহিদা মেটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ও দেশের অন্যান্য প্রান্তে যাচ্ছে। মাঠ থেকে আখ বিক্রি হলেও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে ভোক্তার কাছে দাম অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।“আখ চাষ অনেক শ্রমসাধ্য। এবার দাম ভালো পেলেও ব্যবসায়ীরা কৃষকের চাইতে বেশি লাভ করছে।”

একজন ব্যবসায়ী জানান, “জেলার চাহিদা মেটানোও অত্যন্ত জরুরি। আমরা মাঠ থেকে আখ ২০ টাকায় কিনে ঢাকায় পাঠাই। সেখানে বিক্রি করতে করতে কয়েক টাকার লাভ হয়। এরপর মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছায়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আখের ভালো ফলন হয়েছে এবং এ বছর ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকার বিক্রির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কৃষিবিদ ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা আশাবাদী। নতুন জাতের আখের উদ্ভাবনও হয়েছে, বিশেষ করে রংবিলাস জাতের চাহিদা বেশি।”

জেলায় মোট ৫২৪ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি পিস আখ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে, যা কৃষক পর্যায়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি করবে।

মতামত দিন