কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় অসময়ে তরমুজ চাষে সফলতা, কৃষকেরা পাচ্ছেন বাড়তি আয়।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বর্ষা মৌসুমেও খুলনায় ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ হচ্ছে। জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মাচায় তরমুজ ফলাতে দেখা গেছে কৃষকদের।

এতে মৌসুমি সীমাবদ্ধতা ভেঙে সারাবছরই বাজারে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে এবং কৃষকেরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) খুলনা জেলায় ৯৬৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার মাটি ও আবহাওয়া এ আবাদে বিশেষভাবে সহায়ক। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা, রূপসা, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলাগুলোতে চাষ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় কৃষক জানান, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ ফলাতেন। এখন সরকারি সহায়তায় অফসিজনেও করছেন, যেখানে পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ৪০–৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছে। খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে। আরো এক কৃষক বলেন, আগে শুধু ঘেরের পাড়ে শাকসবজি হতো, এখন তরমুজ ফলানোয় আয় বেড়েছে এবং পরিবারের প্রয়োজনও মিটছে।

এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০–২৫ হাজার টাকা খরচে প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি সম্ভব হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে মৌসুমি তরমুজের তুলনায় কৃষকেরা বেশি দাম পাচ্ছেন।

অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের শুধু বীজই সরবরাহ করছে না, মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিসিআরএল প্রকল্পের পরিচালক ড. লোকমান হোসেন মজুমদার জানান, খুলনা ছাড়াও বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় চাষ হচ্ছে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে অসময়ে তরমুজ চাষ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত সরকারি সহায়তা থাকলে খুলনার অফসিজন তরমুজ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবে।

মতামত দিন