পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন কমছে: বিপাকে চাষিরা।
পঞ্চগড়ে চায়ের বাগানে নতুন করে রোগ এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ চাষিদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পাতার পচন রোগ এবং লাল মাকড়, লোফার ও কারেন্ট পোকা বাগান ধ্বংসের শঙ্কা সৃষ্টি করছে।
চাষিরা জানিয়েছেন, নতুন কুঁড়ি ও পাতা দ্রুতই পচে যাচ্ছে, যার কারণে কাঁচা পাতার উৎপাদন প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে না। কীটনাশক প্রয়োগের পরও সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চা বোর্ডের আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে এবং সমতল ভূমি থেকে জাতীয় উৎপাদনের অংশও হ্রাস পেয়েছে।
চাষিরা আশা করছিলেন বাজারে চায়ের মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে, কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আয়ের ক্ষতি হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি চা পাতা ২৪-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মৌসুমের শুরুতে ছিল ১৫-১৬ টাকা। দাম বেড়েছে, কিন্তু খরচের বৃদ্ধি এবং রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাষিরা তৃপ্ত নন।
পঞ্চগড় অঞ্চলে চা চাষের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ নেই। সরকারি বরাদ্দ মূলত ধান ও অন্যান্য ফসলের জন্য, তাই চা চাষিরা খুচরা বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে সার কিনে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাগান পরিচর্যা অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চা বোর্ডের মাধ্যমে চা বাগানেও সারের চাহিদা জানানো হয়। বরাদ্দকৃত সার ডিলারের মাধ্যমে চাষিরা সংগ্রহ করে ব্যবহার করছেন। তবে আবহাওয়ার প্রভাব ও অন্যান্য ফসলের চাহিদার কারণে প্রাথমিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, তীব্র গরম ও খরার কারণে প্রথমে লাল মাকড় ও লোফার দেখা দিয়েছে। পরে পাতা পচা রোগ দেখা দেয়, যা কপার বা হাইড্রোক্সাইড জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কয়েকদিনের মধ্যে দৈনিক পাতার সংগ্রহ বেড়ে তিন লাখ কেজি থেকে পাঁচ লাখ কেজিতে এসেছে। আশা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং এ মৌসুমে সমতল ভূমি থেকে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন সম্ভব হবে।
মতামত দিন