আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য, জিআই স্বীকৃতি পেল ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় হাতে তৈরি লাল চিনির সুনাম বহু পুরনো। প্রায় আড়াইশ বছর ধরে এখানকার কৃষকরা আখের রস থেকে তৈরি করছেন মিহি দানার এই চিনি, যা স্থানীয়ভাবে শরবত, পিঠা কিংবা বিভিন্ন মিষ্টান্নে ব্যবহার হয়ে আসছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতিবছর ফুলবাড়িয়ার উৎপাদিত লাল চিনির বাজারমূল্য দাঁড়ায় শত কোটি টাকার বেশি। এবার এই ঐতিহ্যবাহী পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ নিশ্চিত করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে করা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন হয়েছে। তিনি বলেন, স্বীকৃতির ফলে কৃষকরা উৎপাদনে আরও আগ্রহী হবেন, সরকারও বাড়তি সহায়তা দেবে, আর রপ্তানির পথ খুললে চাষিরা বাড়তি সুবিধা পাবেন।
ফুলবাড়িয়ার বাকতা, কালাদহ ও রাধাকানাই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে কৃষক পরিবারগুলো প্রজন্ম ধরে এই চিনি তৈরি করছেন। তাদের ভাষায়, আখই হলো একমাত্র কাঁচামাল। মাড়াই শেষে রসকে লোহার বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়, পরে কাঠের মুগুর দিয়ে ঘর্ষণ করে মিহি পাউডারের মতো চিনি বানানো হয়। চিনি দেখতে বাদামি বা খয়েরি রঙের হলেও এর নাম হয়েছে ‘লাল চিনি’।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যার ৯০ শতাংশ দেশি জাত। এক হেক্টরে গড়ে আট মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়। বর্তমানে প্রতি মণ লাল চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রায় আট হাজার টাকায়। এ বছর কৃষকরা মোট ১০৮ কোটি টাকার লাল চিনি বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় কৃষক বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এ চিনি বানানো হয়। কোনো রাসায়নিক মেশানো হয় না। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত।”
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী মনে করেন, এই স্বীকৃতির ফলে বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, “স্বীকৃতির খবর পেয়ে আমরা সনদের জন্য প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছি। এটি ফুলবাড়িয়ার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
মতামত দিন