দিনাজপুরে কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে, লাভে খুশি চাষিরা।
দিনাজপুরের কৃষকেরা কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন মূলত লাভজনক হওয়ায়। রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবং বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় এই অঞ্চলে কলার চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
প্রতি বছর শ্রাবণ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত এখানকার কলার মৌসুম। ভোর পাঁচটার মধ্যে চাষিরা তাদের ফল নিয়ে হাটে পৌঁছান। ব্যবসায়ীরা সঙ্গে সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করেন। বিক্রি শেষে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ট্রাকে কলা তোলা হয়, আর সকাল ১১টার মধ্যেই হাটের কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা কলার কাঁদি বিভিন্ন নামে জানে—কাইন, ঘাউর, ঘের বা পীর। প্রকারভেদ অনুযায়ী এক কাঁদি ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। চাষিরা দাম বেশি হওয়ায় সন্তুষ্ট, যদিও পাইকাররা দাম বেশি থাকলেও মুনাফা তেমন পাচ্ছেন না বলছেন।
দশমাইল হাট থেকে প্রতিদিন ১৫–২৫ ট্রাকে দেশজুড়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহে কলা যায়। প্রতিটি ট্রাকে সাধারণত ৮০০–৯০০ কাঁদি কলা ওঠানো হয়। নয়বাদ গ্রামের কৃষক রঞ্জিত রায় বলেন, “পাইকাররা আগেই টাকা দিয়ে দেয়, তাই হাটে আনা গেলে খাজনা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। তাই আমি সরাসরি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করি। এ মৌসুমে আমি ৪০০ কাঁদি কলা বিক্রি করেছি।”
হাটের এক ইজারাদার জানান, হাটটি ৫১ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৭০–৮০ লাখ টাকার কলা কেনাবেচা হয়। শতাধিক ব্যবসায়ী হাটে আসেন, এবং ট্রাকে কলা তুলতে অর্ধশত শ্রমিকের কাজ লাগে। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানি কম হলেও দাম বেশি। চাষিরা লাভবান, পাইকারদের মুনাফা সীমিত।”
তবে তিনি অভিযোগ করেন, হাটের পাইকার ও ট্রাকড্রাইভারদের কোনো বিশ্রামের সুবিধা নেই। সরকার রাজস্ব পেয়েছে, কিন্তু হাটের উন্নয়ন হয়নি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দিনাজপুরে ৪,৫০০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। প্রতি দিন দশমাইল হাটে প্রায় ১ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়।

মতামত দিন