ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরাঞ্চলে পাটের ভালো ফলন, দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এতে অনেকেই পাট চাষের আগ্রহ হারাচ্ছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ বছর পাটের মূল্য সরকারি হারে নির্ধারণ করা হবে।
অঞ্চলের চাষিরা জানান, আগে পাট বিদেশে রপ্তানি হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত। এখন সেই দিনগুলো নেই। তারপরও স্থানীয় কৃষকরা বছরের পর বছর এই ফসলের চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন।
চলতি বছরের আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল না থাকায় পাটের গাছ তুলনামূলকভাবে ছোট হয়েছে। তবু মোট ফলন সন্তোষজনক। পানি কম থাকার কারণে পাট গাদা করা ও পঁচানো প্রক্রিয়ায় শ্রম ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে চাষিরা ক্ষুদ্র লাভ বা কোনও লাভ না পাওয়ায় হতাশ।
কৃষক জানান, “পাটের সার, হালচাষের খরচ বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বিক্রির দামে খরচও উঠছে না। বাজারদারাই লাভবান হচ্ছে, আমরা ন্যায্য দাম পাচ্ছি না।” অন্য একজন কৃষক বলেন, “পানি কম থাকায় পঁচানো জন্য দূরে যেতে হয়, শ্রম ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। সরকার যদি নির্ধারিত দাম ঠিক করতো, অন্তত কিছুটা সুবিধা হত।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৪ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে দেশি, কেনাফ, মেছতা ও তোষা জাতের পাট আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কেনাফ জাতের ফলন সবচেয়ে ভালো।
জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন, পানির সমস্যা সমাধান হলে চাষিরা সহজে পাট সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং বাজারেও ন্যায্য দাম পাবেন। বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা হবে।
কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাট বিক্রি হবে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি।
মতামত দিন