কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের পার্বত্য এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মৌমাছি চাষের জনপ্রিয়তা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পার্বত্য বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মৌমাছি চাষ। রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও আলিকদমসহ সদর উপজেলার অনেক পরিবার বাড়তি আয় অর্জনের জন্য গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের  পাশাপাশি মধু উৎপাদন করছেন।


পাহাড়ের জলবায়ু ও আবহাওয়া মৌমাছি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অনেকে বন থেকে রাণী মৌমাছি সংগ্রহ করে কাঠের বক্সে রাখছেন। মৌমাছিরা পাহাড়ের বিভিন্ন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বক্সে জমা করে। প্রতি বক্সে ২৫ থেকে ৫০ হাজার মৌমাছি থাকে এবং কয়েক মাসের পরিচর্যার পর প্রতিটি বক্স থেকে ৩–৬ কেজি মধু আহরণ করা সম্ভব। পাহাড়ে চাষকৃত অ্যাপিস সেরানা প্রজাতির মধুর মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে, প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ২–৩ হাজার টাকায়।

রোয়াংছড়ি উপজেলার তেতুলিয়া পাড়ার মেগ্য মার্মা বলেন, “রাণী মৌমাছিকে বক্সে রাখার পর কয়েক মাসের মধ্যেই মধু আহরণ করা যায়। কৃষিকাজের পাশাপাশি এটি বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।” মেগ্য মার্মা ছাড়াও ওই এলাকার আরও ১৮টি পরিবার বাড়ির আঙিনায় মৌমাছি চাষ করছেন।

পার্বত্য মৌচাক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানান, “অস্বচ্ছল পরিবারদের জন্য মৌ চাষ খুবই সুবিধাজনক, কারণ এতে অতিরিক্ত খরচ লাগে না এবং মৌমাছিকে আলাদা খাবার দিতে হয় না। এটি  তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে।”

বান্দরবান কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক এম এম শাহনেওয়াজ বলেন, “বান্দরবান জেলা প্রাকৃতিকভাবে মৌ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বাড়ির আঙিনায় বা আশপাশের খালি জায়গায় মৌ বক্স বসিয়ে সহজে চাষ করা সম্ভব। চাষিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং মৌ চাষের সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা তাদের সহায়তা চালিয়ে যাব।”

মতামত দিন